রসালো জাম আর তার সঙ্গে ঝালনুন। কলকাতার অফিস পাড়ার মোড়ে মোড়ে এখন দেখা যাচ্ছে ঝাঁকায় সাজানো কালচে বেগনি রঙের ফল। বাজার-হাটেও বেশ ভালই বিক্রি হচ্ছে ফলটি। সামান্য কষা ভাব, আবার একই সঙ্গে মিষ্টিও। গরমে আম, লিচুর পাশাপাশি স্বাদের এমন অদ্ভুত বৈপরীত্যের জন্যই জামের কদর বেশি। কিন্তু সুস্বাদু এই ফল কাদের বেশি খাওয়া উচিত নয়, খেলেই বা কী সমস্যা হতে পারে, জানেন?
জামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই কম, এতে ফাইবারের মাত্রা বেশি, গরমের সময় ডায়াবেটিকেরা এই ফল খেতেই পারেন। তবে জাম উপকারী বলে পরিমাণে বেশ খানিকটা খেয়ে ফেললে কিন্তু সমস্যা হতে পারে। ফল মাত্রই তো আদতে ফ্রুকটোজ়, বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে।
১) জামে অক্সালেট নামক এক ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যা প্রস্রাবে থাকা ক্যালশিয়ামের সঙ্গে মিশে কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে। যাঁদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের জাম খাওয়ার বিষয় সতর্ক থাকতে হবে। তা ছাড়া জামে উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়ামও থাকে, তাই কিডনির সমস্যা থাকলে রোজ রোজ জাম না খাওয়াই ভাল।
২) জামে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা সাধারণত হজমে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে এটি খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে হজমজনিত অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ফাইবারের কারণে পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি পেটে হালকা খিঁচুনি বা ব্যথাও হতে পারে। যাঁদের ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ (আইবিএস) রয়েছে, তাঁদেরও বুঝেশুনে জাম খেতে হবে।
৩) জাম খেতে হলে ফল হিসেবেই খান। অনেকেই জামের সঙ্গে নুন, লঙ্কাগুঁড়ো মাখিয়ে খান। সে ক্ষেত্রে শরীরের উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হবে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে এই ছোট ভুলের কারণে কিন্তু অনেকটাই ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
শারীরিক সমস্যা এড়াতে জাম খাওয়ার সময় কী কী নিয়ম মানতে হবে?
১) ফল খাওয়ার পর এমনিতেই জল খেতে বারণ করা হয়। তেষ্টা পেলেও জাম খেয়ে কখনও জল খাবেন না। তাতে ডায়েরিয়া ও বদহজমের মতো সমস্যা হতে পারে। জাম খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা পরে জল খান।
২) খালি পেটে জাম না খাওয়াই ভাল। এতে বদহজম, অম্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৩) জাম খাওয়ার পর দুধ, পনির, দই বা দুগ্ধজাত অন্য খাবার এড়িয়ে চলুন।
৪) জাম এবং হলুদ খুবই মারাত্মক জুড়ি। এই দুটো জিনিস কখনও একসঙ্গে খাবেন না। অনেক সময় জাম দিয়ে চাটনি বানানো হয়, সে ক্ষেত্রে হলুদ না দেওয়াই ভাল।