শিশুর ওজন বেশি হলে, কেউ বলেন ‘গোলগাল’। কেউ আবার বলেন, ‘স্বাস্থ্য একটু বেশি ভাল।’ আর এই সব শব্দের আড়ালেই অদেখা রয়ে যায় বিপদ। চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা, সকলেই সতর্ক করছেন শিশুদের স্থূলত্ব সংক্রান্ত ওজন নিয়ে। বয়স অনুযায়ী বাড়তি ওজন যেমন বাড়ন্ত বয়সের শিশুদের হাঁটাচলায় সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনই ডায়াবিটিস, হাইপারটেনশনের মতো অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শুধু তা-ই নয়, এই স্থূলত্বের কারণে শিশু বয়সেই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ফ্যাটি লিভারের মতো অসুখ।
শিশুদের মধ্যে দিন দিন বাড়ছে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। চিকিৎসক অর্পণ সাহা বলেন, ‘‘যেটাকে আমরা আগে ফ্যাটি লিভার বলতাম এখন তার নতুন নাম মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজ়িজ়। এখন জীবনধারায় নানা রকম অনিয়মের কারণে শিশুরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বাইরে গিয়ে খেলাধুলো না করা, সারা ক্ষণ ঘরে মোবাইল হাতে নিয়ে বসে থাকা, কথায় কথায় বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করে খাওয়া, চিনিযুক্ত নরম পানীয়ে চুমুক— ইত্যাদি নানা কারণে অল্পবয়সিদের লিভারেও ফ্যাট জমতে শুরু করছে।’’
চিকিৎসক অর্পণের মতে, এই রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর শরীরে কোনও রকম লক্ষণ ধরা পড়ে না। মাঝেমধ্যে পেটে ব্যথা আর ক্লান্তি দেখা যায় শরীরে। রক্ত পরীক্ষায় ‘এসজিপিটি’ বেড়ে গেলে তবে ধরা পড়ে এই রোগ।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
১) ওবেসিটির সমস্যা থাকলে
২) পরিবারে ডায়াবেটিক রোগী থাকলে।
৩) অতিরিক্ত ‘জাঙ্ক ফুড’ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে।
৪) শিশুরা খেলাধুলো, দৌড়ঝাঁপ কম করলে।
বাবা-মায়েরা কী ভাবে সতর্ক হবেন?
১) খুদের ওজন এবং বিএমআই নিয়মিত যাচাই করুন
২) প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা শিশুরা যেন বাইরে গিয়ে খেলাধুলো করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
৩) শিশুর বাইরের খাওয়াদাওয়া আর নরম এবং চিনিযুক্ত পানীয় খাবার বিষয়ে আরও একটু কঠোর হোন।
৪) শিশুকে রুটিন স্বাস্থ্যপরীক্ষায় এলএফটি করান।
শিশুর ওবেসিটির সমস্যাকে নিছক ‘গোলগাল’ বলে উড়িয়ে দেবেন না। চিকিৎসক অর্পণ বলেন, ‘‘এখন তো অনেক ছোট, এই ভেবে ভুল করবেন না। আজকের ওর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ভবিষ্যতে বড় রোগের কারণ হতে পারে। তাই বাবা-মায়েরা ছোটদের নিয়ে একটু সতর্ক থাকুন।’’