দোকানে বা রেস্তরাঁয় তরমুজ কেটে ফলের স্যালাড পরিবেশন করার সময়ে তার উপর সামান্য মশলা আর বিটনুনও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নুন মেশানোর চল আছে তরমুজের শরবতেও। কিন্তু বাড়িতে তরমুজ কেটে খাওয়ার সময়ে নুন মেশান কি? না মেশালে এ বার থেকে মেশাতে শুরু করুন। কারণ, তরমুজে নুন ছড়িয়ে খেলে শুধু স্বাদ বাড়বে না, বাড়বে স্বাস্থ্যগুণও।
তরমুজে নুন ছড়িয়ে কেন খাবেন?
তার আগে জেনে নেওয়া দরকার তরমুজে কী কী পুষ্টিগুণ আছে আর তা কী ভাবে শরীরকে সাহায্য করে। ১০০ গ্রাম তরমুজে ক্যালোরির মাত্রা ৩০। প্রোটিন থাকে ০.৬ গ্রাম, ফাইবার ০.৪ গ্রাম, ফ্যাট ০.২ গ্রাম, শর্করা ৭.৬ গ্রাম আর প্রাকৃতিক চিনি ৬.২ গ্রাম। এ ছাড়া ভিটামিন এ, বি৫, সি এবং কপার, পটাশিয়ামের মতো খনিজ থাকে। এর অন্যান্য পুষ্টিগুণ আছে। এটি যেমন ত্বক, চোখ ভাল রাখতে সাহায্য করে, তেমনই এর পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বার করে দিয়ে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত জলও বার কর দিতে সাহায্য করে তরমুজের পটাশিয়াম। তবে গরম কালে যেহেতু শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমেও সোডিয়াম বেরিয়ে যায়, তাই শরীরে সোডিয়ামেরও প্রয়োজন পড়ে। আর সেখানেই গরমের ফল হিসাবে তরমুজে নুন দেওয়ার দরকার পড়ে।
তরমুজে নুন ছড়ালে কী হয়?
ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য
গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর নুন বা সোডিয়াম বেরিয়ে যায়। তরমুজে পটাশিয়াম থাকলেও সোডিয়াম খুব একটা থাকে না। সামান্য নুন যোগ করলে এটি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট পানীয়ের মতো কাজ করে, যা শরীরের ক্লান্তি দূর করে দ্রুত চনমনে করে তোলে।
জলশূন্যতা রোধ
নুন শরীরকে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে। তরমুজের ৯২ শতাংশ জল। তবে তা সহজে শরীর থেকে বেরিয়েও যায়। নুন দিয়ে খেলে সেই জল শরীর সহজে শোষণ করে নেয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে রাখে। ফলে গরমে ডিহাইড্রেটেড বা ভিতর থেকে আর্দ্রতার অভাবের ভয় কমে।
হজমে সাহায্য করে
নুন লালাগ্রন্থিকে সক্রিয় করে এবং পাকস্থলীতে পাচক রস নিঃসরণে সাহায্য করে। তরমুজ খাওয়ার পর অনেকের পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হয়। নুন সেই অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
নুন ছড়ালে তরমুজ খেতেও ভাল লাগে। কিন্তু যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে অতিরিক্ত নুন না খাওয়াই ভালো। সেক্ষেত্রে বিট নুন বা সামান্য রক সল্ট ব্যবহার করতে পারেন।