সুস্থ থাকতে ব্যায়ামের কোনও বিকল্প নেই। তা সকলের জন্যই সমান জরুরি। সেখানে মহিলা বা পুরুষের ভেদাভেদ নেই। তবে মহিলাদের শরীরের গঠন, জীবনের প্রতি পর্বে হরমোনের বদল এবং মানসিক চাপের ধরন পুরুষদের থেকে অনেকটাই আলাদা। তাই ব্যায়ামের ধরনও কিছুটা আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক। মেয়েদের পেশি ও হাড়ের ক্ষয় যত দ্রুত হয়, পুরুষদের ততটা নয়। সে জন্য মহিলাদের পেশির জোর বৃদ্ধির ব্যায়াম পুরুষের চেয়ে আলাদা হবেই। যোগাসনের এমন কিছু পদ্ধতি আছে যা মহিলাদের জন্য বেশি কার্যকরী হতে পারে।
বালাসন বা চাইল্ড পোজ়
হাঁটু মুড়ে গোড়ালির উপর বসতে হবে। তার পর কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ সামনের দিকে হেলিয়ে দিন। শরীরটা এমন ভাবে ঝুঁকিয়ে আনুন, যাতে বুক ঊরুতে গিয়ে ঠেকে। মাথা ম্যাটের উপরে ঠেকিয়ে হাত দু’টি সামনের দিকে প্রসারিত করে দিন। শ্বাস স্বাভাবিক রেখে ওই ভঙ্গিতে ৩০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। এই আসন অন্তত তিন সেট করতে হবে।
মৎস্যেন্দ্রাসন
পা দু’টি টানটান করে ছড়িয়ে দিন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। এ বার বাঁ পা মুড়ে বাঁ হাঁটু ডান ঊরুর উপর রাখুন। শরীর উপরের অংশ বাঁ দিকে ঘুরিয়ে বাঁ হাত ডান হাঁটুর উপর রাখুন। ডান হাত পিঠের দিক দিয়ে ঘুরিয়ে পায়ের পাতা ধরে রাখুন। এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। এই আসন অভ্যাসে বুকের পেশি প্রসারিত হবে, সেই অংশের লসিকা গ্রন্থিগুলিতে রক্ত সঞ্চালন সঠিক ভাবে হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বাঙ্গাসন
চিত হয়ে শুয়ে পা দু’টি জোড়া করে উপরে তুলুন। দু’হাতের তালু দিয়ে পিঠ এমন ভাবে ঠেলে ধরুন, যেন ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত এক সরলরেখায় থাকে। থুতনিটি বুকের সঙ্গে লেগে থাকবে। দৃষ্টি থাকবে পায়ের আঙুলের দিকে। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে ওই ভঙ্গিতে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এই আসন অভ্যাসে ঋতুস্রাবজনিত সমস্যার সমাধান হয়, থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে থাকে ও বুকের পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিকমতো হয়।