প্রতি দিন সকালে আয়েশ করে খাওয়া এক কাপ চা-ও কিন্তু স্বাস্থ্যের বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। অনেকেই কাজের সুবিধার জন্য টি ব্যাগের সাহায্যেই চা বানিয়ে খান। কিছু টি ব্যাগ, বিশেষ করে যেগুলি প্লাস্টিক বা সিন্থেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি, সেগুলি দিয়ে চা বানানোর সময়ে সেই পানীয়ে মাইক্রো প্লাস্টিক কণা নির্গত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। আর তা থেকেই হতে পারে শারীরিক সমস্যা।
সব টি ব্যাগ এক রকম হয় না। আগে সব টি ব্যাগ কাগজ দিয়ে তৈরি হত, তবে ইদানীং অনেক ধরনের টি ব্যাগে নাইলন, পলিপ্রোপিলিন বা তথাকথিত সিল্কেন মেশের মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়। এই উপাদানগুলি টি ব্যাগের আকৃতি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু ফুটন্ত জলের সংস্পর্শে এলে এগুলি একটি সমস্যা তৈরি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গরম জলে (প্রায় ৯০-৯৫° সেলসিয়াস) ভেজালে কিছু প্লাস্টিক-ভিত্তিক টি-ব্যাগ থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক (৫ মিলিমিটারেরও কম আকারের ক্ষুদ্র কণা) এবং আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক নিঃসৃত হয়, যা খালি চোখে দেখা যায় না। কিছু পরীক্ষায় দেখা গিছে, একটি মাত্র টি ব্যাগ থেকে এক কাপে কোটি কোটি এমন কণা নির্গত হতে পারে। যদিও প্রতিটি টি ব্যাগের ধরন এবং চা বানানোর পদ্ধতির উপর নির্ভর করে এই সংখ্যাগুলি পরিবর্তিত হয়। তবে বেশিরভাগ গবেষক একটি বিষয়ে একমত যে প্লাস্টিকযুক্ত টি ব্যাগের কারণে শরীরে ভাল মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দিনের পর দিন শরীরে ঢুকে রক্তে মিশতে থাকলে তা বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। প্লাস্টিক রক্তে মিশলে ইনসুলিনের ক্ষরণে প্রভাব ফেলে। যা পরবর্তী সময়ে ডায়াবিটিসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শুধু তা-ই নয়, প্লাস্টিক শরীরে হরমোনের ভারসাম্যও বদলে দিতে পারে। অধিক মাত্রায় প্লাস্টিক-কণা শরীরে জমলে পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। মহিলাদের বিভিন্ন হরমোন ক্ষরণে বাধা তৈরি করে। বিশেষ করে, ইস্ট্রোজেন হরমোনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তা ছাড়া লিভারের সমস্যা, হার্টের রোগ, কিডনির জটিল অসুখ হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাবে।