জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবের পরিচিতি কর্মফলের দেবতা হিসাবে। শনিদেব যে কোনও মানুষকে তাঁর কর্মের উপর ভিত্তি করে ফল প্রদান করে থাকেন। শনিদেবের নাম শুনলেই মনে একটা ভীতি কাজ করে। যাঁরা জ্যোতিষশাস্ত্রের চর্চা করেন তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন শনিদেবকে কঠোর শিক্ষক বা সফলতায় বাধাদানকারী হিসাবে বিচার করা অনুচিত। কারণ শনি এমন একটি গ্রহ, যার সুনজরে পড়লে মানুষ শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে শেখে। দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করেন শনিদেব।
জ্যোতিষমতে, যাঁদের জন্মকুণ্ডলীতে শনি উচ্চ অবস্থানে থাকে, তাঁদের প্রথম জীবন সমস্যাসঙ্কুল হয়ে উঠতে পারে। কারণ শনিদেব জীবন জটিল করে পরীক্ষা নেন। পরীক্ষায় কে কেমন ফল করলেন সেই বিচারে শনিদেবের থেকে ফল পাওয়া যায়। যাঁদের জন্মছকে শনির প্রভাব বেশি তাঁরা সফলতার জন্য উতলা হলে প্রার্থিত ফল পাবেন না। কারণ যাঁদের জীবনে শনি শক্তিশালী অবস্থানে থাকে, তাঁদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নজরে পড়ে।
শনির কৃপাদৃষ্টি রয়েছে এমন জাতকদের সুযোগ আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু যখন আসে, তখন তা দীর্ঘস্থায়ী ফল সঙ্গে করে নিয়ে আসে। অল্প বয়সেই এঁদের উপর দায়িত্ব এসে পড়ে। জীবনের অভিজ্ঞতায় অনেকের থেকে দু’কদম এগিয়ে থাকেন। সমস্যাগুলো বাইরে প্রকাশ না করে নিজেদের কষ্ট মনের ভিতরেই চেপে রাখতে ভালবাসেন এরা। সম্মান ও স্বীকৃতি প্রায়শই জীবনের শেষ পর্যায়ে আসে। কিন্তু সেগুলি দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে। এর প্রভাবও হয় ব্যাপক।
জ্যোতিষীদের মতে শনির কাজ শাস্তি দেওয়া নয়। বরং জটিল বিষয়গুলোর সমাধান করা। দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শনিদেবকে রুষ্ট করার মতো ভুলগুলি এড়িয়ে চললে সাফল্য পায়ে লুটিয়ে পড়বে। জেনে নিন কোন কোন উপায় মেনে চললে শনির অশুভ প্রভাব কেটে শুভ ফল পাবেন।
· কোনও কাজ ফেলে রাখবেন না; আপনার সময়সূচি মেনে চলুন।
· সব সময় কঠোর পরিশ্রম করার প্রতিশ্রুতি নিন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ফল লাভের আশা করলে কুপিত হন শনিদেব।
· বয়স্ক মানুষ, কর্মজীবী মানুষ এবং দরিদ্র মানুষদের প্রতি সদয় হোন।
· মিথ্যা বলবেন না বা কাজে ফাঁকি দেবেন না। কাজে মনোযোগ দিন।
· রাগ নিয়ন্ত্রণে আনুন এবং ধৈর্য ধরুন।
· বিশেষ করে শনিবারে শুভ কর্ম করার চেষ্টা করুন। এই দিনটিতে শনিমন্দিরে তিল বা তেল দান করুন।
· শনিদেবকে তুষ্ট রাখতে ‘ওম শম শনিচারায় নমঃ’ মন্ত্রটি জপ করুন।