হিন্দু ধর্মের প্রায় প্রতিটি পুজোর শেষে চরণামৃত দেওয়ার চল রয়েছে। ব্রত শেষে চরণামৃত খেয়েই ব্রত সম্পন্ন করার চল রয়েছে আমাদের শাস্ত্রে। চরণামৃতকেই আমাদের ধর্মের শ্রেষ্ঠ প্রসাদ হিসাবে গণ্য করা হয়। সেই কারণে যে কোনও উপবাস ভাঙার সময় চরণামৃত খেতে হয়। তার পরই অন্যান্য খাবার খাওয়া যায়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, চরণামৃত বিনা অন্যান্য জিনিস খেয়ে নিলে উপবাস পালনের পূর্ণ ফলপ্রাপ্তি ঘটে না। এটি আমাদের জীবন থেকে সকল নেগেটিভ শক্তি দূর করতে সাহায্য করে। তবে চরণামৃত খাওয়ারও বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সেটি বানাতেও হয় নির্দিষ্ট উপায়ে। সেগুলি কী, জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
চরণামৃত বানানোর সঠিক নিয়ম কী?
বহু মানুষ ভিন্ন ভিন্ন জিনিস দিয়ে চরণামৃত বানিয়ে থাকেন। তাতে অনেকে মনোমতো অনেক উপাদান যোগও করেন। তবে শাস্ত্রমতে চরণামৃতে দিতে হবে পাঁচ নির্দিষ্ট উপাদান। দুধ, দই, ঘি, মধু এবং চিনি দিয়ে চরণামৃত বানানো উচিত। এর বাইরে ফুল, বেলপাতা, তুলসীপাতা (ঠাকুরবিশেষে বাদ দেওয়া যায়) আর কিছু দেওয়া অনুচিত।
আরও পড়ুন:
-
নিজ নক্ষত্রে কেতুর প্রবেশ, সুসময়ের সাগরে তিন রাশির ব্যক্তিরা! আর্থিক ক্ষেত্রে দেখা যাবে দারুণ পরিবর্তন
-
ব্যক্তিত্ব হয় আকর্ষণীয়, সফলতা পেতেও সমস্যা হয় না! তিন রাশির ব্যক্তিদের জীবনের রথের চালক স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ
-
গোলাকার না লম্বা, নিত্যপুজোয় কোন আকারের সলতে ব্যবহার শাস্ত্রসম্মত? পৃথক আকৃতির সলতের গুরুত্বই বা কী?
চরণামৃত খাওয়ার উপায়:
- মনে কোনও সংশয় নিয়ে চরণামৃত খাওয়া যাবে না। সেটিকে ভক্তিভরে, ভালবেসে খেতে হবে।
- বাঁ হাত নয়, ডান হাতই চরণামৃত খাওয়ার জন্য উপযুক্ত। বাঁ হাতে চরণামৃত গ্রহণ করার অর্থ দেবতাকে অসম্মান করা। তাই চরণামৃত খাওয়ার সময় ডান হাত ব্যবহার আবশ্যিক।
- ডান তালুর মাঝখানে অল্প পরিমাণ চরণামৃত নিয়ে প্রথমে প্রণাম করতে হবে। তার পর এক বারে সেটি খেয়ে নিন। এর পর হাত ধুয়ে নেওয়াই শ্রেয়। সেই হাত যেন পায়ে না লাগে খেয়াল রাখতে হবে। তবে সব সময় হাত ধোয়ার জল পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে হাতটি মাথায় মুছে নেওয়া যেতে পারে।