হিন্দু বিয়েতে সিঁদুরের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেকে লাল রঙের সিঁদুর পরে বিয়ে করেন, অনেকে কমলা। যে রঙেরই সিঁদুর পরা হোক না কেন, শাস্ত্রমতে তার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সিঁদুর সুখী দাম্পত্যের প্রতীক। স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং সুস্থতা কামনায় সধবা মহিলাদের প্রতি দিন সিঁদুর পরা উচিত বলে মনে করেন অনেকে। তবে যেনতেন প্রকারে সিঁদুর পরলেই চলবে না, মানা উচিত বিশেষ কিছু নিয়ম। সিঁদুর পরার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি, জেনে নিন।
সিঁদুর পরার নিয়ম:
১. চুল খোলা অবস্থায় সিঁদুর পরা অনুচিত। এতে দাম্পত্যের উপর নেগেটিভ প্রভাব পড়ে। স্নানের পর চুল শুকিয়ে গেলে তা বেঁধে নিতে হবে। তার পর সিঁদুর পরা যেতে পারে।
২. তর্জনী বা মধ্যমা সিঁদুর পরার জন্য উপযুক্ত। তাই এই দুই আঙুল বাদে অন্যান্য আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরা যাবে না। বহু বিবাহিত মহিলা চিরুনির সাহায্যে সিঁদুর পরে থাকেন। তবে সেই কাজটিও করা উচিত নয় বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র।
৩. নিজের ব্যবহৃত সিঁদুর কখনও কাউকে পরতে দিতে নেই। এর ফলে দাম্পত্যে চিড় ধরে বলে মনে করা হয়। নতুন সিঁদুর কিনে কাউকে দেওয়া যেতেই পারে। তবে নিজে এক বার যে সিঁদুর ব্যবহার করে ফেলেছেন, তা আর অপরকে পরতে দেওয়া যাবে না। অন্যের ব্যবহার করা সিঁদুরও পরা উচিত নয়।
৪. হিন্দু ধর্মে সিঁদুরকে মা লক্ষ্মীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। এঁটো হাতে বা দরকার ছাড়া তাই সিঁদুর স্পর্শ করা উচিত নয় বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র। এতে স্বামীর অমঙ্গল হয়।
৫. সিঁদুর অত্যন্ত পবিত্র একটি জিনিস। বাসি গায়ে, স্নান না করে সিঁদুর পরা উচিত নয়।
৬. বিবাহিত মহিলাদের সিঁদুর কখনও সম্পূর্ণ মুছে ফেলা উচিত নয় বলেও জানাচ্ছে শাস্ত্র। এতে দাম্পত্যে তথা স্বামীর অমঙ্গল হয়।