বহু হিন্দু বাড়িতেই গোপাল রাখা হয়। গোপাল হল শ্রীকৃষ্ণের ছোটবেলার রূপ। তাই বাড়িতে যাঁরা গোপাল রাখেন, তাঁরা তাঁকে একটি ছোট্ট শিশুর মতোই লালন-পালন করেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, গোপাল আদতে ভগবান। বাচ্চার মতো ভালবাসা হচ্ছে বলে যে তাঁকে নিয়ে মনের মতো করে সব কিছু করবেন সেটা হবে না। গোপালপুজোর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল তাঁকে স্নান করানো। গোপালকে প্রতি দিন স্নান করাতে হয়। তবে যে কোনও সময় নয়। সকাল, দুপুর না রাত, গোপালের স্নানের জন্য কোন সময় শ্রেষ্ঠ জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
গোপালের স্নানের সময়:
সকাল: গোপালকে স্নান করানোর আদর্শ সময় হল ভোরবেলা বা ব্রাহ্মমুহূর্ত। সূর্যোদয়ের পূর্বে গোপালকে স্নান করাতে পারলে খুব ভাল হয়। ভোর ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত সময়কাল গোপালকে স্নান করানোর জন্য আদর্শ। সেই সময় তাঁকে স্নান করিয়ে পুজো সেরে রেখে দিতে পারলে সংসারের মঙ্গল হয়। তবে সেটা সম্ভব না হলে সকাল ৮টার মধ্যে অবশ্যই গোপালকে স্নান করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। গোপাল যে হেতু শ্রীকৃষ্ণের ছোটবেলার রূপ, তাই শীতকালে তাঁর ঘুম দেরিতে ভাঙে বলে মনে করা হয়। তাই শীতকালে ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নান না করিয়ে, সকাল ৮টার মধ্যে স্নান করাতে হবে।
দুপুর: দুপুর ১২টার পর গোপালকে স্নান করানো অশুভ। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে হল গোপালের বিশ্রামের সময়। এই সময় তিনি পুজো বা স্নান, কোনওটাই গ্রহণ করেন না। দুপুর ১২টার আগে স্নান করাতে না পারলে বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে গোপালের স্নান করাতে হবে। তার আগে বা পরে করানো যাবে না। এতে গোপাল রুষ্ট হন। বাড়ির শান্তি বিঘ্নিত হয়।
রাত: সূর্যাস্তের পরবর্তী সময়কাল গোপালের স্নান বা অভিষেকের জন্য অত্যন্ত অশুভ। রাতে পরিবেশ শান্ত থাকে। সেই সময় গোপাল বিশ্রাম নেন। তাই সূর্য অস্ত যাওয়ার পর গোপালকে স্নান করানো যাবে না। এতে গোপালের ঘুমের বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে পরিবারের উপর কুপ্রভাব পড়ে।