নাগাল্যান্ডে বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে সোমবার নয়া পূর্ব-নাগাল্যান্ড রাজ্য গড়ার দাবিকে ‘ন্যায্য’ বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সঙ্গে নয়া রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ইস্টার্ন নাগাল্যান্ড পিপলস অর্গানাইজেশন’ (ইএনপিও)-কে প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি জোট ক্ষমতায় ফিরলে সমস্যার ‘ইতিবাচক সমাধান’ হবে।
শাহের এমন মন্তব্যকে মঙ্গলবার গোর্খাল্যান্ড পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করল কংগ্রেস। নাগাল্যান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি সম্পাদক রণজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘২০০৯ সালের লোকসভা ভোট থেকে ধারাবাহিক ভাবে দার্জিলিং আসনটি জেতার জন্য ‘গোর্খাল্যান্ড তাস’ খেলেছে। নাগাল্যান্ডে এসেও শাহ একই খেলা খেলতে চাইছেন।’’ কংগ্রেস নাগাল্যান্ড ভেঙে পৃথক রাজ্য গড়ার দাবির বিরোধী জানিয়ে রণজিৎ বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচনী ইস্তাহারে জানিয়েছি, রাজ্যে ক্ষমতার শরিক হলে উন্নয়নের নিরিখে পিছিয়ে পড়া পূর্ব নাগাল্যান্ডে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। ওই অংশে মিনি সচিবালয় এবং উন্নয়ন বোর্ডের দফতর খোলা হবে।’’
আরও পড়ুন:
মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া পূর্ব নাগাল্যান্ডের ৬টি জেলা— মন, তুয়েনসাং, কিফিরে, নোকলক, লংলেং এবং শামাতোরকে নিয়ে নতুন রাজ্য গড়ার দাবিতে গত কয়েক বছর ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ওই এলাকায় বসবাসকারী ৭টি জনজাতি গোষ্ঠীর যুক্তমঞ্চ ইএনপিও। দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে তারা। সম্প্রতি রাজ্য ভাগের দাবিতে ভোট বয়কটের ডাক দিলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করে নেন ইএনপিও নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে শাহ নয়া রাজ্য গড়ার দাবির ‘সারবত্তা’ স্বীকার করায় গোর্খাল্যান্ডের ছায়া দেখছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার নাগাল্যান্ডে ভোট প্রচারে গিয়ে কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, ‘‘রাজ্যে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির সরকার হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমতা আনা হবে।’’
আরও পড়ুন:
রণজিতের দাবি, নব্বইয়ের দশকে কংগ্রেস সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্প রূপায়ণে জেলাভিত্তিক দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও গত দু’দশকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু কোহিমা-ডিমাপুর অঞ্চলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর সেই বঞ্চনা থেকেই উঠে এসেছে পৃথক রাজ্যের দাবি। নাগাল্যান্ডের বিজেপি সভাপতি তথা মন্ত্রী তেমজেন আলংও মঙ্গলবার জানান, উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসাম্য দূর করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। প্রসঙ্গত, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি নাগাল্যান্ডের ৬০টি বিধানসভার ভোট। ২ মার্চ গণনা। শাসকদল এনডিপিপির সঙ্গে জোট বেঁধে এ বার ২০টিতে লড়ছে বিজেপি।