Advertisement
E-Paper

তিন বোনের ঝাঁপ: ‘ডায়েরিতে যা লেখা আছে, সবটাই সত্যি’! উদ্ধার আট পাতার সুইসাইড নোট, আঁকিবুঁকি দেওয়ালেও

তিন বোন যে ঘরে থাকত, সেই ঘরের দেওয়ালে বিভিন্ন আঁকিবুঁকি করা ছিল। দেওয়ালে এক জায়গায় লেখা, “আমি খুব খুব একা।” সেটিও আবার চৌকো করে ঘিরে বার বার কালির আঁচড় দিয়ে কেটে দেওয়া।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৬

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আবাসনের ১০তলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার আগে সুইসাইড নোট লিখে যায় তিন বোন। আট পাতার ওই সুইসাইড নোট ইতিমধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অনলাইন গেমের প্রতি তাদের আসক্তি আরও প্রকট হয়েছে ওই নোটে। আত্মহত্যার আগে বাবার কাছে ক্ষমা চায় তিন বোন।

উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদের ওই ঘটনায় তদন্তকারীরা একটি ছোট পকেট ডায়েরি উদ্ধার করেছেন। সেই ডায়েরির মধ্যেই আট পাতার নোট লেখা ছিল, যার শিরোনামে রয়েছে ‘জীবনের সত্য কাহিনি’। শিরোনামের শেষে একটি ছোট মনখারাপের ইমোজি-ও আঁকা ছিল। পুলিশের অনুমান, দশতলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার ঠিক আগেই এই নোটটি লিখেছিল তারা। হিন্দি এবং ইংরেজি মিশ্রণে ওই নোট লেখা ছিল, “এই ডায়েরিতে যা লেখা আছে, সব পড়ো। কারণ, এটাই সত্যি। এখনই পড়ো! আমরা সত্যিই দুঃখিত। দুঃখিত, বাবা।” তার পরে আবার একটি কান্নার ইমোজি আঁকা।

সূত্রের খবর, তিন নাবালিকা কোনও এক কোরিয়ান গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল। ওই টাস্ক-বেস্‌ড কোরিয়ান গেমেই (যে গেমগুলি খেলার সময়ে গেমের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয় এবং তার ভিত্তিতে লেভেল বৃদ্ধি পায়) মজে থাকে তারা। জানা যাচ্ছে, তারা ওই গেমের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছিল যে একে অন্যকে বিভিন্ন কোরিয়ান নামেও ডাকতে শুরু করেছিল। সুইসাইড নোট থেকে এই আসক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, “আমরা কোরিয়া ছাড়তে পারব না। কোরিয়াই আমাদের জীবন। তুমি আমাদের এর থেকে আলাদা করতে পারবে না। আমরা আমাদের জীবন শেষ করে দিচ্ছি।”

গাজ়িয়াবাদের ওই আবাসনে তিন বোন যে ঘরে থাকত, সেই ঘরের দেওয়ালেও বেশ কিছু আঁকিবুঁকি করা ছিল। এক জায়গায় লেখা ছিল, “আমি খুব খুব একা”। সেই লেখাগুলিও আবার চৌকো করে ঘিরে বার বার কালির আঁচড় দিয়ে কেটে দেওয়া। এমন বেশ কিছু আঁকিবুঁকি মিলেছে ঘরের দেওয়ালে।

সূত্রের খবর, কোভিড অতিমারির সময় থেকেই অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি বেড়েছিল তাদের। এমনকি গেম খেলার জন্য স্কুলেও অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল তারা। তিন মেয়ের অনলাইন গেমের প্রতি এমন আসক্তি পছন্দ ছিল না বাবা-মায়ের। সারাক্ষণ মোবাইলে মুখ গুঁজে গেম খেলা নিয়ে প্রায়শই বকাবকিও চলত। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বেশি রাতের দিকে আচমকা আবাসনের ১০তলা থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দেয় তিন বোন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১২, ১৪ এবং ১৬ বছর বয়সি ওই তিন কিশোরীর।

Ghaziabad Suicide
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy