পূর্বপুরুষদের শাপমুক্তি ঘটাতে ধরণীতে গঙ্গা এনেছিলেন ভগীরথ। এ বার জলের সমস্যা মেটাতে নিজেই বাড়িতে আস্ত এক কুয়ো খুঁড়ে ফেললেন ‘লেডি ভগীরথ’।
তিনি গৌরী নায়েক। উত্তর কন্নড় জেলার সিরসির গণেশ নগরের বাসিন্দা তিনি। গৌরীর কাণ্ডে রীতিমতো গর্বিত এলাকার মানুষজন। কী করেছেন তিনি?
গৌরীদেবীর বাড়িতে সুপারি-নারকেল গাছের ছড়াছড়ি। তবে, তাতে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জল নেই। উপায় না দেখে শেষমেশ একটা আস্ত কুয়োই খুঁড়ে ফেললেন গৌরী এস নায়েক।
আরও পড়ুন
‘বাবাকে সত্যিকারের গুলি মেরেছিল, আমি ঘৃণার গুলিতে বিদ্ধ হতে প্রস্তুত’
আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাই প্রায় তিন মাস ধরেই একাই কুয়ো খুঁড়ে গিয়েছেন গৌরী। এলাকায় ধর্মস্তলা গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের সদস্য তিনি। সেই কাজের পাশাপাশি দিনমজুরি করেই সংসার চলে তাঁর। দৈনিক সেই কাজের ফাঁকেই কুয়ো খুঁড়তেন গৌরী দেবী। প্রতি দিন পাঁচ-ছ’ঘণ্টা ধরে প্রায় চার ফুট করে কুয়ো খুঁড়তেন তিনি। খোঁড়াখুঁড়ির পর মাটি সরানোর কাজও গৌরী নিজের হাতেই করতেন। তবে একেবারে শেষ পর্বে এসে কুয়োর কাদামাটি সরানোর জন্য তিন জন মহিলার সাহায্য নিয়েছিলেন তিনি।
তিন মাসে গৌরীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এখন তাঁর বাড়িতে ৬০ ফুটের কুয়ো। দেড়শো সুপারি গাছ-সহ সঙ্গে বেশ কয়েকটি কলা ও নারকেল গাছ বাড়িতে লাগিয়েছেন তিনি। তাতে রোজ কুয়োর জল ঢালছেন গৌরী।