বিহার জয়ের পর এ বার তাঁর এবং তাঁর দলের লক্ষ্য যে বাংলা, তা বুঝিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বাংলা জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিল বিহার। এ-ও বললেন, ‘‘বিহার হয়েই গঙ্গা যায় বাংলায়!’’
বিহারে বিরাট জয় পেয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরছে নীতীশ কুমার এবং বিজেপির জোট। নির্বাচনে ২৪৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০০-র বেশি আসনে জিততে চলেছে তারা। ধরাশায়ী হয়েছে লালু যাদব-তেজস্বী যাদবের দল আরজেডি এবং কংগ্রেসের জোট। ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেই শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে বিজয়োৎসবের কর্মসূচিতে ভাষণ দেন মোদী। ভাষণে বিহারের ‘জঙ্গলরাজ’ নিয়ে তো আরজেডি এবং কংগ্রেসকে আক্রমণ তো করেইছেন মোদী, কথায় কথায় বাংলার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। টেনে মোদী বলেন, ‘‘বিহারের মতো বাংলা থেকেও জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলা হবে।’’
মোদীর এই মন্তব্যের জবাবও দিয়েছে তৃণমূল। কুণাল বলেন, ‘‘বাংলায় জঙ্গলরাজ নেই। জঙ্গলরাজ ছিল বাম জমানায়। নরেন্দ্র মোদী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথা বলছেন। কিন্তু তাঁর সরকারের রিপোর্ট দেখিয়ে দেয়, বাংলা নিরাপদতম। কাশ্মীর থেকে দিল্লি, পরের পর ব্লাস্ট দেখিয়ে দেয়, বাংলা দেশের মধ্যে নিরাপদতম।’’মোদীর বাংলা জয়ের অঙ্গীকার নিয়ে কুণাল বলেন, ‘‘বিহার জয়ের উচ্ছ্বাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলা নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করছেন, জেনে রেখে দিন, সে গুড়ে বালি! বিজেপি বাংলা জয় করবে, এটার মানে হচ্ছে— কুঁজোরও ইচ্ছা হয় চিত হয়ে শোওয়ার, আর গামছারও ইচ্ছা হয় ধোপার বাড়ি যাওয়ার।’’
বিহারে জয়ের পর মোদীর নিশানায় যতটা না আরজেডি ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল কংগ্রেস। মোদীর মন্তব্য, ‘‘জঙ্গলরাজ নিয়ে কিছু বললে আরজেডি-র চেয়ে কংগ্রেসের বেশি গায়ে লাগত।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এক সময়ে বিহারে ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে হিংসা হত। আগে বহু জায়গায় পুনর্নির্বাচন হত। আগে বিহারে মাওবাদীরাজও ছিল। নকশাল এলাকায় ৩টের পর আর ভোট করা যেত না। কিন্তু জঙ্গলরাজ সরতেই বিহার স্বাভাবিক হয়েছে। এ বার বিহারের ভোটে কোনও হিংসা হয়নি। কংগ্রেস আর কখনও ফিরবে না।’’
গত কয়েকটি নির্বাচনে (বিধানসভা এবং লোকসভা মিলিয়ে) কংগ্রেসের ফলাফল নিয়েও কটাক্ষ করেছেন মোদী। তিনি বলেন, ‘‘বিহারের ভোটে আমাদের যত জন জিতেছেন, গত ছ’টা বিধানসভা মিলিয়েও কংগ্রেসের এত জন জিততে পারেননি। কংগ্রেস হল মুসলিম লিগ মাওবাদী কংগ্রেস পার্টি। কংগ্রেসের ভিতর এত নিরাশা যে, দলে নতুন ভাগ তৈরি হচ্ছে। আবার বিভাজন হবে। কংগ্রেসের সঙ্গে যারাই জোট করবে, তাদেরই এর ফল ভুগতে হবে। কংগ্রেস একটা বোঝা হয়ে গিয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ৬ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বিহারে প্রথম দফার নির্বাচন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হবে আগামী মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর)। ভোটগণনা এবং ফলপ্রকাশ হবে ১৪ নভেম্বর। বিহারবাসীর জন্য সব দলই ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক কোটি চাকরি থেকে শুরু করে মহিলাদের অর্থসাহায্য— বাদ নেই কিছুই। বিরোধীরা তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছে। নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ, বার বার বিহারে প্রচারে এসে জানিয়েছেন, নীতীশ কুমারের নেতৃত্বেই লড়বে এনডিএ। তবে ভোটে যদি এনডিএ জেতে তবে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছে শাসকজোট।
- রাজ্যের ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই মূলত এনডিএ এবং আরজেডি-কংগ্রেস-বামেদের জোট মহাগঠবন্ধনের মধ্যে। লড়াইয়ে আছে প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে)-এর জন সুরাজ পার্টিও। মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে ১০১টি আসনে লড়ছে বিজেপি আর নীতীশ কুমারের জেডিইউ ১০১টি আসনে লড়ছে। চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) লড়ছে ২৯টি আসনে। অন্য দিকে, বিহারের অনেক বিধানসভা কেন্দ্রেই মহাগঠবন্ধনের জোটসঙ্গীরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে। শাসকজোট এ নিয়ে কটাক্ষ করলেও বিরোধীদের দাবি, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’।
-
নীতীশের মন্ত্রিসভায় সংখ্যাধিক্য বিজেপির-ই! আরও ৯ জনকে পরে নেওয়ার রাস্তা খোলা রাখল এনডিএ, বাকি কাদের কত মন্ত্রী?
-
বিজেপির শরিক নীতীশ কুমারকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তৃণমূলের শত্রুঘ্ন সিন্হা! ‘বিহারিবাবু’র কাণ্ড সম্পর্কে অবগত দলনেতা অভিষেক
-
এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও তিন লক্ষ ভোটার বাড়ল কী ভাবে? কংগ্রেসের প্রশ্নের জবাব দিল কমিশন
-
কিডনি দান করেছেন বাবাকে, লালুকন্যা সেই রোহিণীই সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন পরিবারের সঙ্গে! দাবি, ছাড়ছেন রাজনীতিও
-
‘পল্টুরাম’ থেকে অসুস্থতার অভিযোগ, কাজে এল না কিছুই, নীতীশ বুড়ো হন, কিন্তু হারেন না