Advertisement
E-Paper

সেই এয়ার ইন্ডিয়া, সেই বোয়িং ৭৮৭, সমস্যা সেই জ্বালানি সুইচেই! পাইলটের তৎপরতায় এড়ানো গেল দুর্ঘটনা

গত বছরের ১২ জুন অহমদাবাদ থেকে লন্ডনের অদূরে গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বোয়িং সংস্থার এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান এআই১৭১। ওই বিমানটিও ছিল বোয়িং ৭৮৭। রানওয়ে ছাড়ার ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে সেটি সামনের বহুতলে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৫
Air India pilot reports possible defect in Dreamliner fuel control switch

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আবার সেই এয়ার ইন্ডিয়া। সেই বোয়িং ৭৮৭। দেখা দিল জ্বালানি সুইচের সমস্যা। তবে পাইলটের তৎপরতায় এড়ানো গেল অহমদাবাদ বিমান ভেঙে পড়ার মতো ঘটনা! এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে সোমবার জানানো হয়, তাদের এক পাইলট ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচে সমস্যার কথা জানান। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয়। আপাতত ওই বিমান উড়ছে না। যাবতীয় পরীক্ষানিরীক্ষার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত বছরের ১২ জুন অহমদাবাদ থেকে লন্ডনের অদূরে গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বোয়িং সংস্থার এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান এআই১৭১। ওই বিমানটিও ছিল বোয়িং ৭৮৭। রানওয়ে ছাড়ার ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে সেটি সামনের বহুতলে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে। বিমানের ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জন-সহ মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়। এক মাসের মাথায় প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে ভারতের এয়ারক্র্যাফ্‌ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। তাতে প্রাথমিক ভাবে জ্বালানির সুইচে সমস্যাকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে দেখানো হয়।

বিমানে দুই ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকে দু’টি জ্বালানি সুইচ। অহমদাবাদ দুর্ঘটনার সময় ইঞ্জিনের ওই দু’টি সুইচই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিমান চলাচল সুরক্ষা বিষয়ক সংগঠন ‘সেফ্‌টি ম্যাটার্স ফাউন্ডেশন জানায়, সোমবার বোয়িং ৭৮৭-র ক্রুরা জ্বালানির সমস্যার কথা জানান। জ্বালানির সুইচ ‘রান’ থাকা অবস্থায় ‘লক’ থাকছিল না। বার বার ‘কাটঅফ’-এ যাচ্ছিল। এই সুইচগুলি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ হয় ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ।

এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। যে বিমানে সমস্যা দেখা দিয়েছে সেটি লন্ডন এবং বেঙ্গালুরুর মধ্যে যাতায়াত করে। ন’বছরের পুরনো ওই বিমানটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে বিষয়টি বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-কেও জানানো হয়েছে। ডিজিসিএ-র নির্দেশে এয়ার ইন্ডিয়া তার সমস্ত বোয়িং ৭৮৭-র জ্বালানি সুইচ পরীক্ষা করছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আমেরিকার ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এফএএ বোয়িং ৭৩৭ জেটগুলি নিয়ে একটি উপদেশাবলি (অ্যাডভাইজ়রি) জারি করেছিল। স্পেশ্যাল এয়ারওর্দিনেস ইনফরমেশন বুলেটিন (এসএআইবি)-এ বলা হয়েছিল, বোয়িং ৭৩৭-এর কিছু বিমানে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ ত্রুটিপূর্ণ ভাবে লাগানো হয়েছে। তাতে ‘লকিং ফিচার’ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। তবে এটি সাধারণ একটি উপদেশাবলি ছিল। এর ফলে বোয়িংয়ের নির্দিষ্ট ওই বিমানগুলিকে ‘অসুরক্ষিত’ বলে দেগে দেওয়া হয়নি। সাধারণত বিমানের কোনও ত্রুটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে এয়ারওর্দিনেস ডিরেক্টিভ্‌স জারি করে থাকে এফএএ। তাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ওই ত্রুটি সংশোধনে আইনত বাধ্য থাকে। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু করা হয়নি। ফলে এয়ার ইন্ডিয়ার জন্যেও এই পরামর্শ মেনে বিমানের জ্বালানির সুইচ পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে কোনও আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল না। অনেকের মতে সেই সময় এফএএ-র নির্দেশ মানা হত তবে অহমদাবাদের মতো দুর্ঘটনা ঘটত না। কেউ কেউ এ-ও বলছেন, ওই দুর্ঘটনা থেকেও শিক্ষা নেয়নি এয়ার ইন্ডিয়া। তার উদাহরণ সোমবারের ঘটনা।

Air India Boeing Dreamliner
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy