বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলের জল্পনাকে আরও উস্কে দিল বৃহস্পতিবার রাতে অমিত শাহের বাড়িতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের বৈঠক। বিজেপির একটি সূত্রের মতে, আগামী রবিবার বা সোমবারের মধ্যে সাংগঠনিক রদবদল সেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছে বিজেপি।
বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের উত্তরপ্রদেশ সফর এক দিন পিছিয়ে যাওয়া এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দু’দিনের (৩-৫ জুলাই) ওড়িশা সফর বাতিল হওয়া— সকাল থেকে ওই দু’টি তথ্য সাংগঠনিক ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলের প্রশ্নে হাওয়া জুগিয়েছিল। এরই মধ্যে রাতে নিতিন নবীন, শাহ ও দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষের মধ্যে বৈঠক সেই রদবদলের সম্ভাবনাকে আরও উস্কে দেয়। প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠক নিয়ে বিজেপি সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি। তবে সূত্রের মতে, কিছু মুখ নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে বিজেপি ও আরএসএস নেতৃত্বের মধ্যে। মূলত সেই জট ছাড়াতেই ওই বৈঠক হয়। বিজেপি সূত্রের মতে, সম্ভবত রবিবার সাংগঠনিক রদবদল সেরে ফেলা হবে। একান্তই তা না হলে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ত্রিদেশীয় সফরের উদ্দেশে ভারত ছাড়ার আগে ওই রদবদল যাতে সেরে ফেলা যায়, সেই পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে দল।
এ যাবৎ যাঁরা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েছেন তাঁদের মধ্যে সব থেকে কম বয়সে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন নিতিন নবীন। ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কমবয়সি নেতাদের নিতিনের নিজস্ব ‘টিম’-এ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার সঙ্গে সাংগঠনিক রদবদল সম্পর্কযুক্ত। তা ছাড়া, মোদী সরকারের তৃতীয় পর্বের প্রথম দু’বছর কেটে গিয়েছে। মন্ত্রিসভার রদবদলও কার্যত সময়ের অপেক্ষা। তাই কাজের খতিয়ানের ভিত্তিতে সংগঠনের দায়িত্বে থাকা বর্ষীয়ান নেতাদের যেমন মন্ত্রিসভায় আনার কথা ভাবা হয়েছে, তেমনই মন্ত্রিসভার বর্ষীয়ান নেতাদের কেন্দ্রীয় ও রাজ্যে স্তরে সংগঠনের দায়িত্বে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলের এক নেতার কথায়, ‘‘নিতিনের ‘টিম’-এ নবীন প্রজন্মের নেতারা বেশি প্রাধান্য পাবেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে অভিজ্ঞ নেতাদের স্থান দেওয়া হবে না। সুনীল বনসল, দুষ্মন্ত গৌতমের মতো নেতারা দলে থেকে সংগঠনের তরুণ নেতাদের পথ দেখাবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপদ থেকে যাঁদের সরানো হবে, তাঁদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বা রাজ্য সংগঠনে দলকে মজবুত করতে পাঠানো হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)