×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

কৃষক আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন আছে এ কথা বলিনি, দাবি অমিত শাহের

সংবাদ সংস্থা
হায়দরাবাদ২৯ নভেম্বর ২০২০ ১৮:৩৩
হায়দরাবাদে ভোটপ্রচারে অমিত সাহ। ছবি: টুইটার থেকে

হায়দরাবাদে ভোটপ্রচারে অমিত সাহ। ছবি: টুইটার থেকে

চলতি কৃষক বিক্ষোভে রাজনৈতিক ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলে শনিবার পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। কিন্তু খট্টরের সেই অভিযোগে সিলমোহর দিলেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হায়দরাবাদে ভোটপ্রচারে গিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, কৃষকদের এই বিক্ষোভে রাজনৈতিক ইন্ধন নেই। একই সঙ্গে কৃষি আইনের পক্ষে ফের সওয়াল করেছেন তিনি।

রবিবার গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (জিএইচএমসি)-এর ভোটপ্রচারে যান অমিত। সেখানে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও এবং হায়দরাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মসলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইআইএমআইএম)-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকেও বিঁধেছেন অমিত। সেই সঙ্গে ওই শহরকে গোটা বিশ্বের ‘আইটি হাব’ হিসাবে তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

খট্টরের উল্টো পথে হেঁটে রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে অমিত বলেন, ‘‘কৃষকদের আন্দোলনকে কখনই রাজনৈতিক বলিনি।’’ এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ‘‘কৃষকদের ভালর জন্যই ওই ৩ আইন আনা হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর কৃষকরা একটি পুরনো ব্যবস্থা থেকে বাইরে আসতে চলেছেন। এ নিয়ে বিরোধীরা আন্দোলন করতেই পারে।’’ পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ‘দিল্লি চলো’র ডাক দিয়েছে কৃষকদের একাধিক সংগঠন। তবে রাজধানীতে বিক্ষোভের অনুমতি মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে অমিত  কৃষকদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁদের বিক্ষোভ দিল্লি থেকে সরিয়ে শহরতলি বুরারিতে নিয়ে যাওয়া হোক। কিন্তু তা পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। উল্টে কয়েক দিন কেটে গেলেও আন্দোলনের তীব্রতা কমেনি।

Advertisement

আরও পড়ুন: নয়া কৃষি আইন শিকলমুক্তির, রাজধানীতে বিক্ষোভের মধ্যেই বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

আরও পড়ুন: জরুরি ভিত্তিতে কোভিড টিকাকরণের জন্য দু’সপ্তাহের মধ্যে আবেদন করবে সিরাম

জিএইচএমসি-এর ভোটকে পাখির চোখ করেই এর আগে হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং জেপি নড্ডা। এর পর রবিবার আসরে নামেন অমিত। এ দিন হায়দরাবাদে রোড শো করেন তিনি। তার পর সাংবাদিক বৈঠকে একের পর এক আক্রমণ শানান তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এবং আসাদুদ্দিন ওয়েইসিকে। তাঁর অভিযোগ, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রী সমিতি (টিআরএস) এবং এমআইএম-এর মধ্যে ‘আঁতাঁত’ রয়েছে। ক্ষমতায় এলে হায়দরাবাদকে ‘নিজাম সংস্কৃতি’ থেকে বের করে আনার দাবিও এ দিন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চেনা সুরেই হায়দরাবাদের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে ‘বংশবাদ’কে মুছে ফেলার কথাও জানিয়েছেন।

শহরে জমা জল এবং পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। এই  নিয়ে ক্ষমতাসীন টিআরএস-কে দুষেছেন অমিত। হায়দরাবাদে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে গোটা বিশ্বের আইটি হাব হিসাবে গড়ে তোলার আশ্বাসও দিয়েছেন।

হায়দরাবাদের ১৫০টি ওয়ার্ডে ভোট হতে চলেছে আগামী ১ ডিসেম্বর। ৪ ডিসেম্বর নির্বাচনের ফল ঘোষণা। গত নির্বাচনে টিআরএস জিতেছিল ৯৯টি আন এবং এমআইএম-এর দখলে ছিন ৪৪টি আসন। বাকি ৭টি আসনে জয় পেয়েছিলেন নির্দল প্রার্থীরা। সেখানে নামগন্ধ ছিল না বিজেপির। এ বার তাই হায়দরাবাদ দখলে মরিয়া গেরুয়া শিবির।

Advertisement