বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই মোদী সরকার তাদের প্রাথমিক কর্মসূচির তালিকায় রাখতে চলেছে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়টি। এ বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মতামত নিয়েই মোদী সরকার গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করবে।
তিন দশক আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি হয়েছিল। আগামী নভেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে শুক্রবার সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়েছে, গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে এখনও দু’দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়নি। একই সঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতামত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এসে পৌঁছেছে। তার ভিত্তিতেই ঢাকার সঙ্গে আলোচনায় নয়াদিল্লির অবস্থান কী হবে, তা ঠিক করা হয়েছে।
মোদী সরকার ২০২৪-এ তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেই বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে এসেছিলেন। সে সময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন, দু’দেশের মধ্যে ২০২৬-এ গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণের জন্য একটি কারিগরি আলোচনা শুরু করা হবে। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, রাজ্যকে বাদ রেখেই ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে চুক্তি পুনর্নবীকরণের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। এ ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন মমতা। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছিলেন তিনি। কেন্দ্র অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
শুক্রবার লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহ জানিয়েছেন, পানীয় জল ও শিল্পের জন্য জলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও নিজের মত জানিয়েছে।
তার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান ঠিক করা হয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৩-এ ৩০ অক্টোবর, ২০২৪-এর ১৫ মার্চ ও ৩১ মে এবং ২০২৫-এর ২৬ মার্চ আন্তঃমন্ত্রক বৈঠক হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিও ছিলেন। তার পরেই কেন্দ্রের সার্বিক অবস্থান ঠিক হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)