অনেক দিন পর আবার ‘রাম নাম’ নিতে দেখা গেল বিজেপি-কে! শোনা গেল রামমন্দিরের কথা।
রামমন্দির বানাবে বিজেপি। আর সেই চেষ্টাটা করা হবে সংবিধান মেনেই। উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের ইস্তেহার প্রকাশ করে শনিবার এই কথা বলেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।
নব্বইয়ের দশকে এই উত্তরপ্রদেশেই ‘রাম নাম’ নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধিয়েছিল বিজেপি। দলের বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী শুরু করেছিলেন ‘রামরথ যাত্রা’, রামমন্দির নির্মাণের জোরালো দাবিতে। সেই রামমন্দির গড়ার আন্দোলনের সময়েই ভাঙা হয় বাবরি মসজিদ। কার্যত, রণক্ষেত্র হয়ে যায় অযোধ্যা।
আরও পড়ুন- ‘ধ্বংস’ থেকে মাত্র আড়াই মিনিট দূরে পৃথিবী’! ট্রাম্প দায়ী, বললেন বিজ্ঞানীরা
তার পর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। বিশ শতক গিয়ে এসেছে একুশ শতক। ধীরে ধীরে থিতিয়ে গিয়েছিল বিজেপি-র মুখে ‘রাম নাম’। কিন্তু ভোট বড় বালাই! উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপি আবার ‘বিশ্বাসী’ হয়ে উঠতে শুরু করেছে ‘রাম নাম কেবলম’-এ, নিজের জমি তৈরি করা বা তা রক্ষা করার লক্ষ্যে। দলের এক সময়ের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ বর্ণহিন্দুদের একজোট করার চেষ্টায় বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি কয়েক দিন আগে বেশ জোরের সঙ্গেই বলেছিলেন, উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ফিরলে বিজেপি রামমন্দির গড়বেই। প্রায় একই কথা বললেন শনিবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও। তবে এ দিন তাঁর সুর ছিল তুলনায় অনেকটাই নরম। রক্ষণাত্মক। অমিত শাহ বলেছেন, ‘‘রামমন্দির গড়ার চেষ্টা করা হবে। আর তা করা হবে সংবিধান মেনেই।’’
উত্তরপ্রদেশে বিধানসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে সাত দফায়। প্রথম দফার নির্বাচন ১১ ফেব্রুয়ারি। সেই ভোটের জন্যই ‘লোক কল্যাণ সঙ্কল্প পত্র’ শীর্ষক দলের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। বলেছেন, ‘‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বিজেপি।’’ গত ১৫ বছর ধরে উত্তরপ্রদেশে ‘অপশাসন’ চালানোর জন্য মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি আর মুলায়ম সিংহ যাদবের সমাজবাদী পার্টির কড়া সমালোচনা বিজেপি সভাপতি শনিবার বলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেবেন।’’
আরও পড়ুন- চাঁদে পা-ই রাখেননি আর্মস্ট্রং, বলছে এ বার আমেরিকাই!
২০১২ সালের নির্বাচনে বিজেপি উত্তরপ্রদেশে ৪০৩ সদস্যের বিধানসভায় পেয়েছিল ৪৭টি আসন। তবে ২০১৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি উত্তরপ্রদেশের ৮০টি লোকসভা আসনের ৭১টিতেই জয়ী হয়েছিল।