বিহার বিপর্যয়ের পরেও যখন আরও এক দফায় বিজেপি সভাপতি পদে থাকবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অমিত শাহ, দলের প্রবীণ নেতাদের ক্ষোভের আঁচ কিন্তু এখনও মেটেনি।
বিহারের ভরাডুবির পরেই লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশী, শান্তা কুমারদের মতো প্রবীণ নেতারা একটি পত্রবোমা জারি করেছিলেন। যার মর্মার্থই ছিল সভাপতি পদে অমিত শাহের ব্যর্থতা। এই বিক্ষুব্ধ নেতাদের অনেকেই ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, অমিত শাহের নেতৃত্বেই দিল্লির পর বিহারেও পরাজয় হয়েছে বিজেপির। এর দায় নিয়ে অমিত শাহের সরে যাওয়া উচিত। এক বার অমিত শাহ সরলে নরেন্দ্র মোদীর কর্তৃত্বও অনেক দুর্বল হবে। সেই পত্রবোমার পর আজ একসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী ও শান্তা কুমার। অমিত শাহ তাঁর গদি ধরে রাখার প্রস্তুতি নিলেও এই প্রবীণ নেতাদের ক্ষোভ যে যায়নি, তা আরও এক বার স্পষ্ট হল।
আডবাণী ও শান্তা কুমাররা অবশ্য কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখার জন্য সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান শান্তা কুমার। আর সেই কমিটিরই সদস্য আডবাণী। এই কমিটি আজ সংসদে রিপোর্ট পেশ করে। সেখানে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কর্পোরেট সংস্থাগুলির সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করতে লাভের ২ শতাংশ যাতে প্রকৃত অর্থে সামাজিক ন্যায়ে ব্যবহার করা হয়, তার উপরে নজরদারি করতে হবে। সরকারি সংস্থাগুলি এই কাজে ভাল ভাবে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু আরও অগ্রগতি প্রয়োজন।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে শান্তা কুমারকে প্রশ্ন করা হয়, ক’দিন আগে আপনি ও লালকৃষ্ণ আডবাণী বিহার ফলের পর দলের সভাপতিকে চিঠি লিখেছিলেন। যে ভাবে সরকারকে আপনারা পরামর্শ দিচ্ছেন, সে ভাবে দলকেও দিয়েছিলেন। দল কি আপনাদের পরামর্শ মানছে? এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে শান্তা কুমার বলেন, ‘‘আমরা যা সুপারিশ করেছি, তার ভিত্তিতে সরকার তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে জানাবে, তারা কী কাজ করেছে। তাতে যদি আমরা সন্তুষ্ট না হই, তা হলে আবার সচিবদের ডেকে সরকারকে কঠোর বার্তা দিতে পারি।’’ কিন্তু দলকে যে চিঠি দিয়েছেন, তারাও কি এ ভাবে আপনাদের বক্তব্যকে সমান ভাবে গুরুত্ব দেবে? এ বারে আর এড়াতে না পেরে শান্তা কুমার বলেন, ‘‘আমি ঠিক এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম। লালকৃষ্ণ আডবাণী ও আমাকে দেখে আপনারা এই প্রশ্নই করবেন। কিন্তু বলে রাখি, সরকারিতন্ত্র আর দল তো এক নয়।’’
শান্তা কুমার স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারিতন্ত্র থেকে যে প্রত্যাশা তা-ও রাখা যায়, কিন্তু সেটি বিজেপির থেকে আশা করা যায় না। যে সময় শান্তা কুমারকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল, সেই সময় আডবাণী নীরব থাকেন। পরেও কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। কিন্তু তাঁদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, যতই অমিত শাহ তাঁর গদি ধরে রাখার চেষ্টা করুন, এখনও খেলা শেষ হয়নি। উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। এখনও নতুন সভাপতি স্থির হতে গোটা মাস বাকি। তার মধ্যে জল অনেকটাই গড়াতে পারে। অতীতে এ ভাবেই শেষ মুহূর্তে সভাপতি পদ থেকে নিতিন গডকড়ীর বিদায় হয়েছিল। বিদায়ের দিনও গডকড়ী বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, তিনি থাকছেন। কিন্তু সন্ধ্যাতেই তাঁকে সরে যেতে বলা হয়।
তবে বিজেপি শিবির বলছে, সেই সময় বিজেপির ক্ষমতাকেন্দ্র ভিন্ন ছিল। সে সময় বিজেপি ছিল বিরোধী দলে। আর এখন ক্ষমতায়। আর সেখানে নরেন্দ্র মোদীর হাতে ক্ষমতার রাশ। ফলে মোদীকে চটিয়ে সঙ্ঘ নেতৃত্বও কোনও পদক্ষেপ করবেন না। আডবাণীর সময়েও দলের হার হয়েছে। আর আডবাণীকে যখন ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয়েছিল, সেই সময়েও দল ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ফলে এখন মোদী যদি না চান, তা হলে অমিত শাহকে সরানো কঠিন। দলের মধ্যে যতই বিক্ষোভ থাক না কেন।