জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) কাণ্ড নিয়ে বিতর্কে ফের উঠে এল মহিষাসুর-প্রসঙ্গ।
জেএনইউয়ে পড়ুয়াদের ‘দেশ-বিরোধী’ চিন্তাধারার কথা বলতে গিয়ে মহিষাসুর শহিদ দিবস নামে এক অনুষ্ঠানের কথা বলেছিলেন স্মৃতি ইরানি। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী দাবি করেন, ওই অনুষ্ঠানে দুর্গা ও মহিষাসুর নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে। তার পরেই গোলমালের জেরে রাজ্যসভা মুলতবি হয়ে যায়।
আজ আবার বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। অধিবেশন শুরু হতেই রাজ্যসভায় কংগ্রেসের উপ দলনেতা আনন্দ শর্মা দাবি করেন, স্মৃতিকে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ, দুর্গা ও মহিষাসুরকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানতে পারে। আনন্দ শর্মার কথায়, ‘‘সংবিধান ও সংসদের নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের কথা সংসদে বলা যায় না।’’ অন্য কোথাও এমন কথা বলা হলে তা সংসদে বলা যায় কিনা, তা জানতে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে কুরিয়েনের রুলিং চান তিনি।
জবাবে আগ্রাসী ছিল বিজেপিও। স্মৃতি বলেন, ‘‘আমি দুর্গাপুজো করি। যা বলেছি তা বলতে আমার খুব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি জেএনইউয়ের নথিতে আছে। যে নথি আমি পড়েছি তা সরকারের নথি নয়।’’
দু’পক্ষের তোপ-পাল্টা তোপের মধ্যে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে কুরিয়েন জানান, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগে এমন কথা সংসদে বলার ঐতিহ্য নেই। এমন কথা থাকলে তা রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হবে। মহিষাসুর নিয়ে স্মৃতির মন্তব্যও বাদ গিয়েছে। যে সব নথি স্মৃতি ব্যবহার করেছেন সেগুলি প্রকৃত কিনা, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। বিকেল চারটে নাগাদ অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়।
পৌরাণিক নায়কদের খলনায়ক হিসেবে দেখার চল আছে কি? মহাভারত গবেষক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ির মতে, ‘‘দেবতাদের ভুল, অসুরদের ঠিক সিদ্ধান্তের কথা পুরাণে আছে। অসুরদের গুণের কথাও আছে। কিন্তু পুরাণ অশুভ থেকে শুভে উত্তরণের কথা বলে। সংসদে যে বিতর্ক চলছে তা একেবারেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমন চর্চার ধারা দেশের কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।’’