জাতীয় দলের তকমা পেয়েছে আম আদমি পার্টি (আপ)। সেই সুখবরকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মোড়কে সমর্থকদের কাছে উপস্থাপন করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরীওয়াল। এক দিকে আপের জাতীয় দলের তকমা পাওয়াকে ‘মিরাকল’ বলে অভিহিত করেছেন কেজরীওয়াল। অন্য দিকে, দলের নেতা, কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে জেলে যেতে তৈরি থাকুন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমান, জাতীয় দলের তকমা পাওয়ার পর মণীশ সিসৌদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেফতারির বিষয় নিয়ে আরও সরব হতে চলেছে আপ। কেজরীওয়ালের কথাতেও তারই ইঙ্গিত।
সোমবার নির্বাচন কমিশন আপকে জাতীয় দলের মর্যাদা দিয়েছে। তার পরের দিন আপের সদর দফতরে গিয়েছিলেন কেজরীওয়াল। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘আম আদমি পার্টির উপর কোটি কোটি মানুষের ভরসা এখন বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। মানুষ এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, ভগবানের আশীর্বাদে সততার সঙ্গে আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব।’’ পাশাপাশি মণীশ সিসৌদিয়া এবং সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেফতারি নিয়ে যে সুর আরও চড়ানো হবে, তারও ইঙ্গিত মিলেছে কেজরীওয়ালের কথায়।
आम आदमी पार्टी पर देश के करोड़ों लोगों की उम्मीद अब विश्वास बन चुकी है। जनता ने बहुत बड़ी ज़िम्मेदारी दी है, प्रभु के आशीर्वाद से हम ये ज़िम्मेदारी भी पूरी ईमानदारी से निभाएँगे। https://t.co/0AIxuKJ8f2
— Arvind Kejriwal (@ArvindKejriwal) April 11, 2023
আরও পড়ুন:
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের অগ্রগতি রুখতে চায় এমন সমস্ত দেশ বিরোধী শক্তি আপের বিরুদ্ধে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন।’’ নেতা, কর্মীদের কেজরীওয়াল জানান, সমস্ত জাতীয় শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে জেলে যাওয়ার জন্যেও প্রত্যেককে তৈরি থাকতে হবে। যদি কেউ জেলে যেতে ভয় পান, তাঁকে আপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলেন কেজরী। ভারতকে আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসনে বসাতে সবাইকে আপে যোগদানের আহ্বান জানান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্নীতির অভিযোগে আপের দুই অন্যতম শীর্ষ নেতা সিসৌদিয়া এবং সত্যেন্দ্র জেলবন্দি। শুরু থেকেই আপের দাবি, রাজনৈতিক লড়াইয়ে আপের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারই ফলশ্রুতি সিসৌদিয়া এবং সত্যেন্দ্রর জেলযাত্রা। জাতীয় দলের তকমা পাওয়ার পর এই বিষয় নিয়ে আপ যে আরও সুর চড়াবে তা এক প্রকার স্পষ্ট। সে কারণেই কর্মী-সমর্থকদের জেলে যেতে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি শোনা গেল কেজরীওয়ালের কণ্ঠে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।