Advertisement
E-Paper

ধর্মের পরিচয়েই ভোট দেয় বদরপুর

মৌলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী দীর্ঘদিন বদরপুরের বিধায়ক ছিলেন। বিমলাপ্রসাদ চলিহা প্রথম বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বদরপুরের বিধায়ক হিসেবে। এখান থেকেই দু’বার জেতেন সিপিএমের রামেন্দ্র দে। প্রাক্তন বিধায়কদের এই তালিকাই বদরপুর বিধানসভা আসনকে চিনিয়ে দেবে, এটাই ছিল স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

শীর্ষেন্দু সী

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৫৩

মৌলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী দীর্ঘদিন বদরপুরের বিধায়ক ছিলেন। বিমলাপ্রসাদ চলিহা প্রথম বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বদরপুরের বিধায়ক হিসেবে। এখান থেকেই দু’বার জেতেন সিপিএমের রামেন্দ্র দে। প্রাক্তন বিধায়কদের এই তালিকাই বদরপুর বিধানসভা আসনকে চিনিয়ে দেবে, এটাই ছিল স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

কিন্তু এখন ভোটের বাজারে এলাকার উন্নয়ন, প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব বা ক্ষমতা বিচার্য নয়। প্রায় সব কিছু এক মাপকাঠিতে বিচার করা হয়। সেটি হল ধর্মীয় পরিচিতি। কোন ধর্মের মানুষের কত ভোট, কত প্রার্থী ময়দানে রয়েছেন, কে কার কত ভোট কাটবে, সে সবই বর্তমান ভোট-রসায়নের আসল কথা।

বদরপুরে এ বার মোট ভোটার ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৪৯৩ জন। নির্বাচন কমিশনের হিসেবে, মুসলমান ৮১ হাজার ৮৬১, বাঙালি হিন্দু ৪৭ হাজার ৯৬৬। চা-বাগান সম্প্রদায়ের ভোট ১ হাজর ৭৭২, অসমিয়া সম্প্রদায়ের ১ হাজার ৭২৮। অন্যান্য ১ হাজার ১৬৬টি।

প্রতি বার এক চিত্র— জেলা সদরের নেতাদের পুনর্বাসন দিতে বদরপুরকে বেছে নেওয়া হয়। সব দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এ কথা। কংগ্রেস ব্রহ্মপুত্র থেকে বিমলাপ্রসাদ চালিহাকে এখান থেকে জিতিয়ে নেয়। সিপিএমের দু’বারের বিধায়ক রামেন্দ্র দে-ও উত্তর করিমগঞ্জের বাসিন্দা। স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে গত নির্বাচনে বিজেপি অফিসে কম শোরগোল বাঁধেনি। এ বার এআইইউডিএফ-এর বিরুদ্ধে একেই ইস্যু করেছে কংগ্রেস। বদরুদ্দিন আজমলের দল বদরপুরে প্রার্থী করেছে আব্দুল আজিজকে। তিনি বদরপুরের ভোটার নন। একে প্রচারে পুঁজি করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী, বর্তমান বিধায়ক জামালউদ্দিন আহমেদ। তা দিয়েই তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করে চলেছেন।

আজিজ অবশ্য জানিয়ে চলেছেন, ভাঙ্গা এলাকায় জমি ক্রয় করে বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, জামালউদ্দিন আহমেদ উন্নয়নের নামে নিজের ভাই, ভাইপো ও ছেলেকে ঠিকাদারি পাইয়ে দিয়েছেন। কাজে না এলে কাছে থেকেই বা কী লাভ! জামালউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বজন পোষণের অভিযোগ বিজেপি প্রার্থী দীপক দেবেরও।

জামালউদ্দিন অবশ্য সে সব গায়ে মাখতে নারাজ। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ তাঁর কাজকর্ম দেখতে পাচ্ছেন। সেই সূত্রে তিনি দাবি করেন, দলমত নির্বিশেষে তাঁকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন সকলে। ২০০১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ও গত বার কংগ্রেস টিকিটে জিতেছেন জামালউদ্দিন আহমেদ। কেউ কেউ বলেন— দ্বিতীয় বার বিধায়ক হয়েই অহঙ্কার বেড়ে যায় তাঁর। শেষ পাঁচ বছরের বেশির ভাগটাই ব্যয় করেছেন স্বদলীয় নেতা সিদ্দেক আহমেদের বিরুদ্ধে খোঁচাখুঁচি করে। জামালবাবুর মতে, বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। এ সবের মধ্যেই ঘর গোছানোর কাজ চলছে বিজেপির দীপক দেবের।

তাঁর আশা, কেন্দ্রে রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা, রাজ্যে হবে সর্বানন্দের সরকার, বদরপুর থেকে বিজেপি প্রার্থীকেই বিধানসভায় পাঠাবেন ভোটাররা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy