রাজ্যসভায় দেউলিয়া বিধি (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় কেন্দ্রকে নিশানা করলেন। তাঁর বক্তব্য, কর্পোরেট মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী গত বছর লোকসভায় জানিয়েছিলেন, আইনটি চালু হওয়ার ন’বছরের মধ্যে ছ’বার ও তার বিধি নিয়মে ১২২ বার সংশোধন করা হয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায়, শুধুমাত্র বড় ঋণখেলাপিদের বেরোবার রাস্তা তৈরির জন্যই তড়িঘড়ি এই আইন চালু করা হয়।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে সুখেন্দুশেখর বলেন, “এই আইনের সুযোগ নিয়ে কর্পোরেট সংস্থাগুলি পাওনাদারদের ১২ কোটি ৩১ লাখের মধ্যে মাত্র ৩ কোটি ৯৯ লাখ ফেরত দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি ফেরত পায়নি। সাধারণ আমানতকারীদের টাকা এই প্রক্রিয়ায় লুট হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, আলোচ্য বিলের ৭ নম্বর সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারি কর্তৃপক্ষকে নিয়ম তৈরির যথেচ্ছ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যা মূল আইনের পরিপন্থী। সংসদের নজরদারির ক্ষমতাকেও খর্ব করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। এর পর সুখেন্দুশেখরের নাম উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন উত্তরে বলেন, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থ ব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থেই দেউলিয়া বিধিতে পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং এই সংশোধনী যাবতীয় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
গত কাল লোকসভার পর আজ এই দেউলিয়া বিধিটি সংশোধনী পাশ হল রাজ্যসভায়। এর ফলে এই আইনে সংস্থা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে এবং মামলার সংখ্যা কমিয়ে আদালতের উপরে বোঝা কমানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আজ লোকসভায় পাশ হয়েছে জন বিশ্বাস বিলও। এতে কিছু অপরাধকে ফৌজদারি আইনের আওতা থেকে বার করে আনা হয়েছে। ফলে সেগুলিতে জরিমানা দিয়েই ছাড় পাবেন অভিযুক্ত। লক্ষ্য, এর হাত ধরে দেশে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা। যদিও এ নিয়ে আপত্তি আছে বিরোধীদের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)