Advertisement
E-Paper

বিহারে মদের দোকান এ বার হবে দুধের

কেউ মদ বেচে দুধ খান। কেউ দুধ বেচে মদ! বিহারে কিন্তু মদ নয়, দুধ বেচেই দুধ খাওয়া বা খাওয়ানোর আয়োজন করতে চাইছেন নীতীশ কুমার। দু’পাত্তর খেয়ে নেশা করা দূর! নীতীশের রাজ্যে এ বার মদের দোকানে কারণবারির বদলে থরে থরে সাজানো থাকবে প্যাকেটবন্দি দুধ।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৪:০১

কেউ মদ বেচে দুধ খান। কেউ দুধ বেচে মদ! বিহারে কিন্তু মদ নয়, দুধ বেচেই দুধ খাওয়া বা খাওয়ানোর আয়োজন করতে চাইছেন নীতীশ কুমার।

দু’পাত্তর খেয়ে নেশা করা দূর! নীতীশের রাজ্যে এ বার মদের দোকানে কারণবারির বদলে থরে থরে সাজানো থাকবে প্যাকেটবন্দি দুধ। বিহারবাসীর নেশা ছোটাতে মদের বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আগেই জারি করেছেন নীতীশ। এ বার মদের দোকানের কমর্চারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মদ ব্যবসায়ীদের দুধ বিক্রির ব্যবসায় নামাতে চাইছেন তিনি।

গত মাসে ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই রাজ্যে মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা ঘোষণা করেছিলেন নীতীশ। বিহার সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার সব দেশি মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার পরের প্রথম এক বছর শহর এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে হুইস্কি, রাম বা বিয়ার বিক্রি করা হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে তা-ও বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

প্রশ্ন ছিল, তা হলে মদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ভবিষ্যৎ কী হবে?

বিহার সরকারের পরিকল্পনা—মদের দোকান রূপান্তরিত হবে দুধের দোকানে। দুধ ছাড়াও পাওয়া যাবে লস্যি, দই বা পনির। বিক্রি হবে আইসক্রিম বা মাখন। দিল্লিতে জেডিইউয়ের সর্বভারতীয় বৈঠকে যোগ দিতে এসে নীতীশ আজ এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যে মদ বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরে ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের পুনর্বাসন প্রশ্নে সরব হয়েছিলেন। সরকারও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিল। তার পরে ঠিক হয়েছে মদের দোকানগুলিতে ভবিষ্যতে দুধ বিক্রি হবে।’’

গত কয়েক দশক ধরেই বিহার স্টেট মিল্ক সমবায় সংস্থা বা কমফেড সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে আসছে। বিহার সরকারের বক্তব্য, বতর্মানে কমফেড-এর অধীনে গোটা রাজ্যে ‘সুধা’ বলে যে দুধ বিক্রির দোকান রয়েছে তা রমরমিয়ে চলছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জোগানের চেয়ে চাহিদা বেশি। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে বিহারে দুধ সমবায় গোষ্ঠীর ব্যবসায় আরও গতি আসবে। গ্রামীণ এলাকায় এই সমবায় ছড়িয়ে পড়লে কাজের সুযোগ বাড়বে। ঘরে বসেই দুধ বিক্রি করে আয় করতে পারবেন গ্রামের মানুষ। আর যাঁদের মদের দোকান রয়েছে তাঁরা যদি সেখানে কমফেডের অধীনে দুধের দোকান দেন, সে ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ভাবছে সরকার।

নেশা ছোটানোর এই নয়া দাওয়াইয়ে খুশি বিহারের অর্ধেক সমাজ। দলমত-নির্বিশেষে অধিকাংশ মহিলাই নীতীশের মদ বিক্রির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিরোধী বিজেপির পক্ষেও প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঘনিষ্ঠ মহলে বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, নীতীশের এই ‘মাস্ট্রার স্ট্রোক’-এর আসল লক্ষ্য হল ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন। সেই ভোটে মহিলাদের ভোট পাওয়া নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নীতীশ।

জেডিইউ নেতৃত্বের অবশ্য দাবি, এর পিছনে কোনও রাজনীতি নেই। দলের মত, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা শ্রেণির পুরুষেরা তাদের আয়ের একটি বড় অংশ মদের পিছনে উড়িয়ে দেন। এতে ওই সব পরিবারের লোকজনের স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা—কোনও ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম খরচ করার ক্ষমতা থাকে না। তা ছাড়া মদ খেয়ে শারীরিক অসুস্থতা বা বিষমদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। অধিকাংশ নারী নির্যাতন-হিংসা-অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে এই মদ্যপান। জেডিইউ শিবিরের দাবি, মদ বিক্রি বন্ধ করে রাজ্যের আয় কমলেও, এই সিদ্ধান্তে আগামী দিনে সার্বিক ভাবে আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে বিহারবাসীর। তাই নীতীশের এই সিদ্ধান্তের পিছনে তাঁর দলেরও পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy