মুম্বইকে বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গামুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিল মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন জোট ‘মহাজুটি’। অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্য নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হল। আগামী ১৫ জানুয়ারি দেশের বৃহত্তম (জনসংখ্যার নিরিখে) এবং ধনীতম পুরসভা বৃহন্মুম্বই পুরনিগমে নির্বাচন। তার আগে রবিবার মহাজুটির অন্যতম দুই শরিক বিজেপি এবং শিবসেনা (একনাথ শিন্দে)-র শীর্ষ নেতৃত্ব ইস্তাহার প্রকাশ করে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন।
রবিবার মুম্বইয়ে ইস্তাহার প্রকাশ করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনার প্রধান একনাথ শিন্দে। মহাজুটির শরিক হলেও বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের নির্বাচনে একক ভাবে লড়ছে মহারাষ্ট্রের আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের এনসিপি।
ইস্তাহার প্রকাশের পর সাংবাদিক বৈঠকে ফডণবীস বলেন, “আমরা মুম্বইকে বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গামুক্ত করব। বম্বে আইআইটি-র সহায়তায় আমরা একটা এআই টুল বানাচ্ছি, যা দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা যাবে।” মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারাই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছেন। ফডণবীসের এই দাবি ঘিরে অবশ্য বিতর্ক শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রে ঠিক কত জন বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা তথ্য-সহ জানানোর দাবি তুলেছে কংগ্রেস।
বিরোধী ভোটকে এককাট্টা করে একে অপরের হাত ধরেছেন উদ্ধব ঠাকরে এবং তাঁর তুতো ভাই রাজ ঠাকরে। মরাঠি অস্মিতাকেই রাজনৈতিক অস্ত্র করে ঠাকরে পরিবারের দুই ভাই জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে মুম্বইয়ের মেয়র হবেন কোনও মরাঠা। এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ধব এবং রাজের নাম না-করলেও সোমবার ফডণবীস বলেন, “কিছু মানুষ কেবল মরাঠি মানুষের কথা বলেন। আর আমরা মরাঠিদের জন্য কাজ করে দেখাই। আমরা মুম্বইকরদের জীবন সহজ করার চেষ্টা করেছি।”
মহাজুটির নির্বাচনী ইস্তাহারে মহিলাদের বিনা সুদে পাঁচ লক্ষ টাকার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফডণবীসদের অভিযোগ, জন্ম শংসাপত্র জাল করে মহারাষ্ট্রে বহু অনুপ্রবেশকারী পরিচয়পত্র তৈরি করিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলে জানানো হয়েছে। তা ছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য ডিটেনশন সেন্টার তৈরির কাজ হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ফডণবীস।
১৯৯৭ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা ২৫ বছর বৃহন্মুম্বই পুরনিগম অবিভক্ত শিবসেনার দখলে ছিল। ২০২২ সালের পর এত দিন ওই পুরনিগমে নির্বাচন হয়নি। সরকার নিযুক্ত প্রশাসন পুরনিগমের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করছিলেন।