নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও তার জেরে পডুয়াদের আত্মহত্যার অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলছে। তার মধ্যেই বিজেপি-শাসিত মহারাষ্ট্রে টেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেল! রবিবার প্রায় সওয়া চার লক্ষ পরীক্ষার্থীর টেট পরীক্ষায় বসার কথা ছিল।
বিজেপির আমলে কেন্দ্রে ও বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যে একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিরোধী শিবির থেকে ককরোচ জনতা পার্টি— সব পক্ষই রাস্তায় নেমে পড়েছে। রবিবার বেলা ১১টা থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়ংচুক অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশনে বসবেন। তাঁর সঙ্গে একাধিক ছাত্র ও যুব নেতাও অনশন করবেন। ধর্নায় যোগ দেবেন কৃষক নেতারাও। তার আগে মহারাষ্ট্রের টেট-এর প্রশ্ন ফাঁসের ফলে বিজেপি নতুন করে চাপে পড়েছে। তার উপরে মহারাষ্ট্রে দেবেন্দ্র ফডণবীসের সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের এলাকা ঠাণে থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। যে শিন্দে সম্প্রতি উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙন ধরিয়ে ছয় লোকসভা সাংসদকে এনডিএ-তে টেনে নিয়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে ফডণবীস দ্রুত এসআইটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্য, ‘‘এটা শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়। এটা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ চুরি।’’
ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার নয়, বিজেপি ডাবল লিক-এর সরকার চালাচ্ছে! বিজেপি নেতারা শুধু অন্য দলের সাংসদ, বিধায়ক ভাঙাতে জানেন। নিজেরা পড়াশোনা করেননি, পরীক্ষা দেননি। তাই পরীক্ষার ব্যবস্থা করতেওজানেন না।’’ প্রধানমন্ত্রী চলতি সপ্তাহে দু’বার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। কিন্তু নিট-এর প্রশ্ন ফাঁস, সিইউইটি-র পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়া, সিবিএসই-র পরীক্ষার খাতা দেখায় গণ্ডগোলের জেরে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি ও ছাত্র সংগঠনগুলি ‘প্রধান গো ব্যাক’ স্লোগান তুলে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করেছে। এসএফআই-এর দাবি, প্রথম বার নিট পরীক্ষা বাতিলের পরে দ্বিতীয় পরীক্ষায় কত জন বসেননি, তার হিসেব প্রকাশ করা হোক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)