তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের পরে কংগ্রেস সি জোসেফ বিজয়ের সরকারকে সমর্থন করায় ডিএমকে-কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ডিএমকে এখন থেকে সংসদে কংগ্রেসের থেকে দূরত্ব রেখে বসবে বলে জানিয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব ডিএমকে-কে এনডিএ-তে শামিল করতে চাইছে। বিজেপির অঙ্ক, লোকসভায় এখন সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য যে ৩৬২ জন সাংসদের সমর্থন দরকার, এনডিএ-র কাছে তার থেকে ৭০ জন কম সাংসদ রয়েছে। ডিএমকে-র ২২ জনের সমর্থন পেলে এনডিএ তার কিছুটা কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
ডিএমকে শিবির অবশ্য এখনও এ নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। তাদের একটি শিবির মনে করছে, দলের এখন পুরোপুরি বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানো উচিত। আর একটি শিবিরের মত, মোদী সরকারকে ইস্যুভিত্তিক সমর্থন দিতে পারে ডিএমকে। কারণ কংগ্রেস ভোটের ফলের পরেই পত্রপাঠ ডিএমকে-সঙ্গ ত্যাগ করে বিজয়কে সমর্থন জানিয়ে যে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে, তার শিক্ষা দেওয়া উচিত। উল্টো দিকে, কংগ্রেস আশা করছে, আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে টিভিকে-র সমর্থন নিয়ে কংগ্রেস তামিলনাড়ুতে এক জন সাংসদ জিতিয়ে আনতে পারে। বিজয় নিজের দলের কাউকে পাঠাতে চাইলে অবশ্য অন্য কথা।
আজই নির্বাচন কমিশন ১০টি রাজ্যের ২৪টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে দু’টি আসনে উপনির্বাচন হবে। সুনেত্রা পওয়ার রাজ্যসভা ছেড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তাঁর আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। সার্বিক ভাবে কংগ্রেস তথা বিরোধী শিবিরের রাজ্যসভায় সামান্য আসন বাড়বে। তবে গুজরাত থেকে কংগ্রেসের রাজ্যসভায় আর কোনও সাংসদ থাকবে না। এনডিএ রাজ্যসভায় নিজের সংখ্যা ধরে রাখবে। ওয়াইএসআর কংগ্রেসের শক্তি কমবে। কর্নাটক থেকে একটি আসনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের ফের রাজ্যসভায় ফেরা নিশ্চিত। মধ্যপ্রদেশে দিগ্বিজয় সিংহ আর রাজ্যসভায় ফিরবেন না জানানোয় কমল নাথ রাজ্যসভায় আসতে চাইছেন। বাকি কংগ্রেসের প্রার্থী নিয়ে খড়্গে আজই রাহুল গান্ধীর সঙ্গেবৈঠক করেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)