Advertisement
E-Paper

মাথার দাম ২২ লক্ষ! আত্মসমর্পণ করতে চাওয়ায় সেই মাওবাদী কমান্ডারকে খুনের অভিযোগ সঙ্গীদের বিরুদ্ধে, দেহ মিলল ওড়িশার জঙ্গলে

পুলিশের অনুমান, জানুয়ারির শেষ দিকেই তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তার পরে তাঁর দেহ পুঁতে দেওয়া হয়েছিল জঙ্গলের মধ্যে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫০
জঙ্গলে মাওবাদী দমন অভিযান।

জঙ্গলে মাওবাদী দমন অভিযান। —ফাইল চিত্র।

মাথার দাম ছিল ২২ লক্ষ টাকা। ছিলেন মাওবাদীদের সশস্ত্র শাখার কমান্ডার। এখন আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে চাইছিলেন। কিন্তু তার আগেই খুন হয়ে গেলেন অন্বেষ ওরফে রেণু। পুলিশের সন্দেহ, তিনি আত্মসমর্পণ করতে চাইছিলেন বলেই অন্য এক মাওবাদী নেতা তাঁকে খুন করেছেন।

খুনের পরে অন্বেষের দেহ পুঁতে দেওয়া হয়েছিল ওড়িশার দাড়িংবাড়ির পাকারি জঙ্গলে। বুধবার ওই জঙ্গলের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় তাঁর আধপচা দেহ। পুলিশ অনুমান, জানুয়ারির শেষ দিকেই তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তার পরে তাঁর দেহ পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। ওড়িশা পুলিশের বক্তব্য, অন্বেষ আত্মসমর্পণ করতে চাইছিলেন। তা জানতে পেরেই অপর মাওবাদী নেতা সুকরু এবং তাঁর দলবল মিলে অন্বেষকে খুন করেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

কন্ধমালের পুলিশ সুপার বিসি হরিশ বলেন, “সুকরু এবং তাঁর সঙ্গীরা মিলেই যে অন্বেষকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। অন্বেষ কয়েক জন মাওবাদী ক্যাডারকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চাইছিলেন। সেই সময়েই তাঁকে হত্যা করা হয়।” ছত্তীসগঢ়ের সুকমা থেকে উঠে আসা অন্বেষ মাওবাদীদের কালাহান্ডি-কন্ধমাল-বৌধ-নয়াগড় আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি মাওবাদীদের মিলিটারি প্ল্যাটুনেরও কমান্ডার ছিলেন তিনি। অন্বেষের মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ২২ লক্ষ টাকা।

পুলিশ সুপার আরও জানান, অন্বেষ আত্মসমর্পণের কথা ভাবায় সংগঠনের অন্দরেই তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। আঞ্চলিক কমিটির বেশ কয়েক জন নেতা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছিলেন। কন্ধমালের এসপি বলেন, “ডিভিশনাল কমিটির নেতা জগেশের সাহায্যে আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সুকরু এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে।” গত সপ্তাহেই কন্ধমালের জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন মাওবাদী নেতা জগেশ।

আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। একই সঙ্গে বাড়ছে আত্মসমর্পণের হিড়িকও। গত সপ্তাহে শীর্ষ মাওবাদী নেতা দেবুজি আত্মসমর্পণ করেছেন তেলঙ্গানায়। তবে এ সবের মধ্যেই মাওবাদী দমন অভিযানও চলছে। ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুরে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয় দুই মাওবাদীর। জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটি রাইফেলও।

Maoist Leader Odisha
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy