×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১১ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

গ্যাংস্টার বিকাশ অধরাই, মাথার দাম বেড়ে হল আড়াই লাখ

সংবাদ সংস্থা
নয়াদিল্লি ০৬ জুলাই ২০২০ ১৯:০৫
আট পুলিশকর্মী খুনে মূল অভিযুক্ত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। —ফাইল চিত্র

আট পুলিশকর্মী খুনে মূল অভিযুক্ত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। —ফাইল চিত্র

নির্বিচারে গুলিবৃষ্টি করে আট পুলিশ কর্মীকে হত্যার পর কেটে গিয়েছে তিন দিন। তবু কানপুরের মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের টিকি ছুঁতে পারেনি পুলিশ। এ বার তাই তার মাথার দাম বাড়িয়ে করা হল আড়াই লক্ষ টাকা। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের তরফে সোমবার এই ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য দিকে বিকাশের ছবি দিয়ে পোস্টার সাঁটিয়েছে যোগী রাজ্যের পুলিশ। নেপালে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সীমান্তেও দেওয়া হয়েছে গ্যাংস্টারের ছবি।

সোমবার উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক অতিরিক্ত ডিজি প্রশান্ত কুমার জানিয়েছেন, ‘‘বিকাশ দুবেকে গ্রেফতার করতে নগদ পুরস্কার বাড়িয়ে আড়াই লক্ষ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি এইচ সি অবস্তি।’’ অর্থাৎ বিকাশকে কেউ ধরতে পারলে বা সন্ধান দিতে পারলে তাঁকে এই পরিমাণ অর্থ পুরস্কার দেবে রাজ্য প্রশাসন। প্রথমে বিকাশের মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। পরে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১ লক্ষ। মোটা টাকা পুরস্কারের লোভেও অনেকে খবর দিতে পারেন, সেই আশায় সোমবার পুরস্কারমূল্য আরও বাড়াল রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন।

অন্য দিকে বিকাশকে ধরতে ইতিমধ্যেই বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ৪০টি থানার দুঁদে গোয়েন্দাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি তদন্তকারী দল। রাজ্যের সর্বত্র চিরুনি তল্লাশি চলছে। কিন্তু সন্ধান মিলছে না বিকাশের। এ ছাড়া কানপুর, কানপুর দেহাট, উন্নাও-সহ সংলগ্ন একাধিক শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিকাশের ছবি দিয়ে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। ভারত নেপাল সীমান্তেও একই ভাবে পোস্টার দিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে খবর, দুবের শেষ উপস্থিতির সূত্র মিলেছিল উত্তরপ্রদেশেরই অরাইয়া এলাকায়। তবে সেখানে গিয়েও পুলিশ তার নাগাল পায়নি। সেই সূত্রেই তদন্তকারীরা মনে করছেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে পালিয়ে মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানে গা ঢাকা দিতে পারে বিকাশ।

Advertisement

আরও পড়ুন: চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ডোভালের দীর্ঘ ভিডিয়ো কলেই কাটল জট

উত্তরপ্রদেশের চৌবেপুর থানার বিকরু গ্রামের বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের বিকাশের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, তোলাবাজির মতো অন্তত ৫০টি অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়েছে পুলিশের খাতায়। সম্প্রতি গ্রামেরই এক বাসিন্দা তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করতে বৃহস্পতিবার রাতে ওই গ্রামে অভিযানে যায় পুলিশ। কিন্তু আগে থেকেই পুলিশের মধ্যে কেউ তাকে সেই খবর দিয়ে দেয়। ফলে দলবল নিয়ে প্রস্তুত হয়েই ছিল দুবের বাহিনী। গ্রামে ঢোকার রাস্তা আটকে দিয়ে প্রথমেই পুলিশকে বাধার মুখে ফেলে তারা। পুলিশ সেখানেই গাড়ি রেখে হেঁটে গ্রামে ঢোকে। কিন্তু দুবের বাড়ির কাছে যেতেই ছাদ থেকে গুলিবৃষ্টি শুরু করে দুবের বাহিনী। ঘটনাস্থলেই এক ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার-সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ৭ পুলিশকর্মী।

আরও পড়ুন: গঙ্গায় মিলল দেহ, বৌবাজারের গেস্টহাউস মালিকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য

ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত পুলিশের সাফল্য বলতে বিকাশের এক শাগরেদকে গ্রেফতার। দয়াশঙ্কর অগ্নিহোত্রী নামে ওই ব্যক্তিই পুলিশকে জানিয়েছে যে, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে গিয়েছিল গ্যাংস্টার। এবং সেই খবরও পুলিশের মধ্যে থেকেই কেউ বিকাশকে জানিয়ে দিয়েছিল বলে দাবি করেন দয়াশঙ্কর। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার পুলিশকর্মী-অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

Advertisement