E-Paper

পোর্টাল ‘হ্যাক’! সুরক্ষায় গাফিলতি মানল সিবিএসই

সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণিতে নতুন অনস্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতি ব্যবহার করার পর থেকেই দেশ জুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই পদ্ধতির ফলে উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন প্রায় সাড়ে চার লক্ষ পড়ুয়া।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:৩৪

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সিবিএসই-র।

দ্বাদশ শ্রেণির মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তো ছিলই, এ বার পরীক্ষার্থীদের খাতা যে ডিজিটাল মূল্যায়ন পোর্টালে ছিল, তা যে ‘হ্যাক’ করা সম্ভব, তা করে দেখিয়ে দিলেন এক ছাত্র। দিনের শেষে সিবিএসই স্বীকার করে নিয়েছে যে, ডিজিটাল পোর্টালে সুরক্ষাজনিত গলদ ছিল। অন্য দিকে সিবিএসই-র কারণে পড়ুয়াদের দুর্দশা এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে আজ ফের সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আজ, মাসের শেষ রবিবারে হওয়া প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ‘মন কি বাতে’ আম নিয়ে কথা বলার সময় পেলেন, কিন্তু সিবিএসই-এর সাড়ে ১৮ লক্ষ পরীক্ষার্থী নিয়ে নয়!’’

সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণিতে নতুন অনস্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতি ব্যবহার করার পর থেকেই দেশ জুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই পদ্ধতির ফলে উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন প্রায় সাড়ে চার লক্ষ পড়ুয়া। এই আবহে বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক ছাত্র অভিযোগ করেন, তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে সিবিএসই যে উত্তরপত্র দিয়েছে, সেই উত্তরপত্র তাঁর নয়। তার পরেই ওই পড়ুয়াকে ‘পাকিস্তানি’ বলে দাগিয়ে দেন বিজেপি-ঘনিষ্ঠরা। আজ বেদান্ত এবং তাঁদের মতো অভিযোগ তোলা পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন রাহুল গান্ধী। বলেন, ‘‘আমার সহকর্মী, দেশবিরোধী সোরোস (আমেরিকান ধনকুবের জর্জ সোরোস, যাঁকে রাহুল-ঘনিষ্ঠ ও দেশবিরোধী বলে অভিযোগ বিজেপির) এজেন্টদের সঙ্গে খুব ভাল আলোচনা হল। বেদান্ত ও তাঁর বন্ধুরা মেধাবী ও সাহসী তরুণ ভারতীয় নাগরিক, যাঁরা সিবিএসই এবং মোদী সরকারের সামনে প্রশ্ন রেখেছিল। কিন্তু উত্তরের পরিবর্তে তাঁরা অপমান ও কটূক্তির শিকার হন।’’

এরই মধ্যে সিবিএসই-র ডিজিটাল মূল্যায়ন পোর্টাল অনায়াসে ‘হ্যাক’ করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন ১৯ বছরের ছাত্র নিসর্গ অধিকারী। ওই দাবি ওঠার পরে ব্যবস্থায় যে গলদ রয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছে সিবিএসই। সংস্থা জানিয়েছে, ওএসএম পোর্টালে যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। তার পর থেকেই ডিজিটাল পরিকাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। সিবিএসই জানিয়েছে, আইআইটি-র সাইবার বিশেষজ্ঞ ও সরকারি এজেন্সির সাইবার নিরাপত্তা আধিকারিকেরা ওই কাজ করছেন। সিবিএসই-র দাবি, প্রাথমিক ভাবে যে গলদগুলি চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া আর কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বার করে দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিবিএসই জানিয়েছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা থেকে অনলাইনে খাতা দেখার পোর্টালটি এখন নতুন সার্ভারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। যা অনেক বেশি নিরাপদ ও সুরক্ষিত বলে দাবি সিবিএসই-র।

এ দিকে আজ ফের খাতা দেখার প্রশ্নে দরপত্রের শর্ত শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। আজ সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘সিবিএসই ২০২৫ সালের মে মাসে দরপত্রে জানায়, অটোমেটিক রোবোটিক স্ক্যানার দিয়ে উত্তরপত্র স্ক্যান হবে। রেজ়লিউশন থাকবে অন্তত ৩০০ ডিপিআই। কিন্তু অগস্টে যখন ফের দরপত্র ডাকা হয়, তখন এ সব শর্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। রেজ়লিউশনের মান নেমে আসে ২০০ ডিপিআই-য়ে।’’ রাহুলের অভিযোগ, ‘‘এখন বোঝা যাচ্ছে, ‘কোএম্পট’ বলে যে সংস্থা বরাত পেয়েছিল, তারা মোবাইল দিয়ে খাতা স্ক্যান করেছিল। ফলে ঝাপসা উত্তরপত্র, উধাও হয়ে যাওয়া পাতা, সঠিক ভাবে স্ক্যান না হওয়ার মতো বিষয় ঘটেছে। এটা কোনও ভুল নয়। একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ফল, যার খেসারত দিতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়াকে।’’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদ আঁকড়ে থাকা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ‘মন কি বাতে’ আম নিয়ে কথা বলতে পারেন, কিন্তু সাড়ে আঠারো লক্ষ পড়ুয়া, যাঁদের খাতা মোবাইলের মাধ্যমে স্ক্যান হয়েছে, তাঁদের সম্পর্কে কথা বলার সময় তাঁর নেই! মোদীজির নীরবতা উদাসীনতা নয়, অপরাধে সহযোগিতা।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

CBSE class 12 board exam

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy