পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষ হতেই দু’দিনের লাদাখ সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন লাদাখের রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, স্থানীয় ভাবাবেগকে কোনও গুরুত্বই দিলেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রায় ৭৫ বছর পরে গৌতম বুদ্ধের পবিত্র অবশেষ লাদাখে ফিরে এসেছে। ওই সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই গত কাল লাদাখে যান অমিত শাহ। তিনি আজ লাদাখবাসীর বীরত্বের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘যখনই লাদাখ আক্রান্ত হয়েছে, তখনই লাদাখবাসী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।’’
কংগ্রেসের অভিযোগ, দু’দিন লাদাখে থাকলেও শাহ স্থানীয় মানুষের রাজ্যের দাবি, ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তি, ভূমি ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে নীরব ছিলেন। আজ এ নিয়ে শাহকে কটাক্ষ করে মুখ খুলে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ লাদাখে। তিনি পিপরাওয়ার দেহাবশেষ নিয়েই বিভোর হয়ে রয়েছেন। অথচ সেখানকার জনগণের দীর্ঘ দিনের দাবি লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া, ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তির দাবি শোনা, ভূমি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলি নিয়ে নীরব।’’ বিরোধীদের মতে, বিশেষ করে গালওয়ানের সংঘর্ষের পরে লাদাখ অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি এলাকায় পরিণত হয়েছে। তাই কেন্দ্রের উচিত, এলাকাবাসীর দাবি মেনে লাদাখের উন্নয়নে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া। কিন্তু তা না করে লাদাখকে আরও বঞ্চনা ও বৈষম্যের পথে ঠেলে দিচ্ছে মোদী সরকার।
বিজেপির পাল্টা দাবি, বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে অহেতুক রাজনীতি করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লাদাখে গিয়েছেন। আগামী ২২ মে লাদাখের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাব কমিটির বৈঠক রয়েছে। যাতে লাদাখের সব পক্ষকেই যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই লে অ্যাপেক্স বডি ও কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়্যান্স গত পাঁচ বছর ধরে লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে সরব রয়েছে। চলতি মাসের বৈঠকে রাজ্যের মর্যাদার বিষয়টি ছাড়াও লাদাখের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে দ্বিতীয় বার লোকসভায় জিতে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল কেন্দ্র। একই সঙ্গে ভেঙে দেওয়া হয় জম্মু-কাশ্মীরকে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে লাদাখ। সেই থেকেই রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে সরব লাদাখবাসীরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)