সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির মূল্যায়নে অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতি ব্যবহার নিয়ে ফলপ্রকাশের পর থেকেই প্রবল বিতর্ক চলছে। অভিযোগ, কোএম্পট এডুটেক নামে যে সংস্থাকে ওই মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাদের ওই বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য যাবতীয় নিয়ম ও শর্ত শিথিল করেছিল সিবিএসই। কিসের স্বার্থে ওই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে তা নিয়ে আজ প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
অন্য দিকে, বিতর্কিত ওএসএম পদ্ধতির গুণকীর্তন করতে কেন্দ্রীয় স্কুলের প্রিন্সিপ্যালদের সমাজমাধ্যমে রিল বানানোর নির্দেশ দিয়ে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের শিক্ষামন্ত্রক। যদিও ওই নির্দেশ তারা দেয়নি বলে দাবি মন্ত্রকের। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রধানের অপসারণের দাবি ক্রমশ প্রবল হয়ে উঠেছে। দ্বাদশ শ্রেণির ফলের মূল্যায়ন হয়েছে ওএসএম পদ্ধতিতে। প্রায় চার লক্ষের কাছাকাছি পড়ুয়া উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের জন্য দাবি জানিয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, যোগ্য সংস্থাকে বরাত না দিয়ে তুলনায় দাগি সংস্থাকে ওই মূল্যায়নের বরাত পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। অতীতে তেলঙ্গানায় এ ভাবে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল গ্লোবারেনা নামে একটি সংস্থা। পরে তারাই নাম পরিবর্তন করে কোএম্পট এডুটেক হয়। টিসিএসের মতো নামী সংস্থাকে বাদ দিয়ে কেন কোএম্পটের মতো দাগি সংস্থাকে সমস্ত শর্ত শিথিল করে দায়িত্ব দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল।
রাহুলের দাবি, সিবিএসই ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখার জন্য তিন বার দরপত্র আহ্বান করেছিল। প্রথম বারে কেউ আবেদন করেনি। দ্বিতীয় বারে কোনও যোগ্য সংস্থা পাওয়া যায়নি। আর তৃতীয় বারে টিসিএস এবং কোএম্পট আবেদন করেছিল। রাহুলের দাবি, দুই সংস্থার মধ্যে যাতে কোএম্পট যাতে বরাত পায় তার জন্য সিবিএসই ধাপে ধাপে খাতা দেখার প্রশ্নে প্রযুক্তিগত শর্ত ও যোগ্যতার মান শিথিল করতে থাকে। যার মধ্যে রয়েছে স্ক্যানিং-এর মান কমিয়ে আনা। স্পষ্ট ভাবে খাতা স্ক্রিনে দেখার জন্য যেখানে ৩০০ ডিপিআই রেজ়লিউশন স্ক্যানের কথা গোড়ায় বলা হয়েছিল, তা কমিয়ে আনা হয় ২০০-তে। ফলে বহু খাতা ঝাপসা হয়ে পড়ে। স্পষ্ট ভাবে পড়া না যাওয়ায় নম্বর কম পায় পড়ুয়ারা। এ ছাড়া গোড়ায় বলা হয়েছিল খাতা স্পষ্ট ভাবে পড়ার জন্য রোবটিক স্ক্যানার ব্যবহার করা হবে। পরে সেই শর্ত বাতিল করে দেওয়া হয়।
গোড়ায় দরপত্রে বলা হয়েছিল, সিএমএমআই লেভেল ৫ শংসাপত্র রয়েছে এমন সংস্থাকেই খাতা দেখার বরাত দেওয়া হবে। যেহেতু কোএম্পট-এর তা নেই তাই ওই শংসাপত্রের সূচক লেভেল তিনে নামিয়ে আনা হয়। বরাতে বলা হয়েছিল, খাতা দেখতে গিয়ে সংস্থা যদি ভুল করে তা হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই নিয়মও পরে তুলে নেওয়া হয়। রাহুলের প্রশ্ন, কোএম্পটকে ফায়দা করে দিতে কেন ধাপে ধাপে শর্তের নাম লঘু করা হল? কাদের স্বার্থে ও কাদের যোগসাজশে তা করা হয়েছিল তা নিয়েও যেমন প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল, তেমনি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব তা নিয়েও আজ ফের সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
দ্বাদশের ফলপ্রকাশের পর থেকে ওএসএম পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সমস্ত কেন্দ্রীয় স্কুলের প্রিন্সিপ্যালদের দিয়ে সমাজমাধ্যমে রিল বানিয়ে ওই পদ্ধতির গুণকীর্তন করার নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষামন্ত্রক। কিছু স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল রিল সমাজমাধ্যমে দেওয়ার পরেই প্রবল সমালোচনার ঝড় ওঠে। তার পরেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক জানায়, এমন কোনও রিল তৈরির নির্দেশ তারা স্কুলগুলিতে পাঠায়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনায় সরব হয়েছেন শিবসেনার (উদ্ধব গোষ্ঠী) নেতা আদিত্য ঠাকরে। তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের রিল কাণ্ডের পরে বিশ্বের কোন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পরীক্ষাব্যবস্থার উপরে ভরসা রাখবে! শিক্ষামন্ত্রী ও সিবিএসই বোর্ডের কর্তাদের অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়া উচিত। পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এঁরা ছেলেখেলা করছেন!’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)