অতিরিক্ত প্রশংসাও কূটনীতিতে বিড়ম্বনার কারণ। এমনই বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। তার সর্বশেষ উদাহরণ ইরানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িত ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ‘ভারত প্রেম’ কথা! যিনি গত রাতে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, “বিশ্বের অনেক অংশ থেকেই আমাদের অবৈধ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ভারত তা করেনি। ভারতে ইজ়রায়েল সম্পর্কে পাগলের মতো প্রেম রয়েছে। হ্যাঁ, পাগলের মতোই প্রেম। আমার ধারণা, ভারতে আমার যে অনুগামী রয়েছে, বিশ্বের কোথাও তা নেই।”
এরপরই আসরে নেমেছে কংগ্রেস। দলের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের কথায়, “ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী সদ্য বলেছেন ভারত বাদে গোটা পৃথিবীতেই তাঁরা ব্রাত্য। ভারত নয় শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইকো সিস্টেমের উল্লেখ করলে ঠিক বলা হত। আমেরিকাকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের উপর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঠিক দু’দিন আগে নরেন্দ্র মোদী নেতানিয়াহুকে আলিঙ্গন করেছিলেন। ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের নিশানা করে হত্যা করার নিন্দা করেনি ভারত। গাজ়াকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করা, ইজ়রায়েলের চলতি গণহত্যা, লেবাননের উপর বোমা ফেলার কোনও নিন্দা করেননি মোদী। প্যালেস্টাইনের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া, লাখ লাখ প্যালেস্টাইনবাসীকে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনায় তিনি নীরবতা পালন করেছেন।” জয়রামের কথায়, “নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় সমর্থক এখন নরেন্দ্র মোদী। মোদানী (মোদী ও আদানি) সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত ইজ়রায়েল। ভারতের অবস্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে চূড়ান্ত নৈতিক কাপুরুষতা দেখিয়েছেন তিনি। এটা কোটি কোটি ভারতবাসীর কাছে লজ্জাজনক।”
মোদী সরকারের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কূটনৈতিক শিবিরে এই ধারণাই দৃঢ় হয়েছে যে ভারত ঐতিহাসিক ভাবে প্যালেস্টাইন প্রশ্নে সমর্থন জানালেও দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান নীতি থেকে সরে এসে ইজ়রায়েলের দিকে ঝুঁকছে। নির্ভরতা বাড়াচ্ছে কৃষি জলসম্পদ থেকে শুরু করে কৌশলগত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে। গত বছর গাজ়ায় ইজ়রায়েলের হামলা বন্ধে নিঃশর্ত বিরতি চেয়ে এবং ইজ়রায়েলের তীব্র নিন্দা করে রাষ্ট্রপুঞ্জে যে প্রস্তাবটি পাশ হয়েছিল তাতে শরিক হয়নি ভারত। এ বছরেও ইজ়রায়েলের পশ্চিম ভূখণ্ড দখলে রাখার কড়া সমালোচনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতি থেকে সরে ছিল নয়াদিল্লি। গত জুন মাসে গাজ়ায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্তি এবং মানবিক সাহায্য পৌঁছনোর দাবিতে আনা প্রস্তাব অধিকাংশ সদস্য দেশ সমর্থন করলেও ভারত ভোটদানে বিরত থাকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)