আমেরিকা-ইরান সংঘাতে ভারতের সংযমী পথের কার্যত প্রশংসা করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। স্বভাবতই বিষয়টি নিয়ে বিজেপি প্রচারে নেমে পড়ায় অস্বস্তিতে কংগ্রেস।
সরকারের পশ্চিম এশিয়া নীতি নিয়ে গোড়া থেকেই সরব কংগ্রেস নেতৃত্ব। কার্যত তার ভিন্ন পথে গিয়ে সরকারের সমর্থনে সুর চড়ালেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। বিজেপি আজ সমাজমাধ্যমে তারুরের একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিয়ো প্রকাশ করে। যাতে কংগ্রেস সাংসদকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘যদি আমি কংগ্রেসকে (পশ্চিম এশিয়া সংঘাত প্রশ্নে) পরামর্শ দিতাম সংযম অবলম্বন করার। সংযম মানে আত্মসমর্পণ নয়। এটা এক ধরনের শক্তির প্রকাশ যে, আমরা আমাদের স্বার্থ সম্পর্কে অবগত এবং তা রক্ষা করার প্রশ্নে তৎপর রয়েছি।’’
তারুরের ওই বক্তব্য সামনে আসায় স্বভাবতই অস্বস্তিতে কংগ্রেস। কারণ একে প্রথম থেকেই কংগ্রেস মোদী সরকারের পশ্চিম এশিয়া নীতি নিয়ে সমালোচনা করে এসেছে। খোদ সনিয়া গাঁধী কাগজে প্রবন্ধ লিখে ভারতের বিদেশনীতির সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদী সরকার ইরানের সর্ব্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই হত্যার নিন্দা না করা নিয়ে সরকারের নীতির বিরোধিতা করে সরব হন। কংগ্রেসের বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়া সংঘাতে গোড়া থেকেই ভারত একটি পক্ষ নিয়ে চলছে। ইরান যেখানে ভারতের পুরনো বন্ধু দেশ, সেখানে এ ধরনের অবস্থান মোটেই কাম্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হতে আজ শশী বলেছেন, “এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আমাদের একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হওয়া উচিত, এবং আদর্শভাবে আমাদেরই এর নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। এমন অনেক দেশ রয়েছে যারা আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে। আমি আশা করি আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করব...।”
সরকারের প্রশংসা করে তারুরের বক্তব্যকে অস্ত্র করেছে বিজেপি। আজ দলের আইটি শাখার প্রধান অমিত মালবীয় ওই ভিডিয়োটি এক্স-এ পোস্ট করে লেখেন, ‘কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর মোদী সরকারের বিদেশনীতির প্রশংসা করে বলেছেন, বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার সময়ে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য’। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মতো অনেক দেশেরই যা করা উচিত, তা হল শান্তির আহ্বান জানাতে উদ্যোগী হওয়া। যাতে উভয় পক্ষই শান্তির রাস্তায় ফিরে আসতে পারে।’’ সরকারের কূটনীতির প্রশংসা করেছেন কংগ্রেসের আর এক সাংসদ মণীশ তিওয়ারি। তিনি বলেন, ‘‘সবার আগে বোঝা উচিত পশ্চিম এশিয়ায় একটি নয়, একাধিক সংঘাত চলছে। ..এর কোনওটিই আমাদের যুদ্ধ নয়। যদি বিশ্লেষণ করি, তা হলে দেখা যাবে আমরা যা করছি তা ঠিকই করছি। এটিই কৌশলগত স্বশাসন যা নিজের স্বার্থকে সুরক্ষিত করে থাকে।’’ যদিও মণীশ পরে জানান, তাঁর বক্তব্যকে ভুল ভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে। তিনি ওই ভাবে বলতে চাননি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)