ইরানে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলা নিয়ে মোদী সরকারের নীরবতা। পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির ফলে ভারতে জ্বালানির সঙ্কটের আশঙ্কা। ভারত মহাসাগরে ভারতের আমন্ত্রণে নৌসেনায় মহড়ায় যোগ দিতে আসা ইরানের জাহাজের উপরে আমেরিকার হামলা। সর্বোপরি ইরানে হামলা শুরুর ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজ়রায়েল সফর ও পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের প্রশ্নে ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি দাবি করতে চলেছে কংগ্রেস তথা বিরোধী শিবির।
আগামী সোমবার থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতে চলেছে। কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেত্রী সনিয়া গান্ধী ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি তুলেছেন। আজ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপ বাড়াতে অভিযোগ তুলেছেন, ‘‘গোটা বিশ্ব অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে চলে গিয়েছে। সামনে কঠিন সময়। ভারতের তেলের জোগান বিপদের মুখে। এলপিজি, এলএনজি-র পরিস্থিতি আরও খারাপ। ভারতের উঠোনে সংঘাত পৌঁছে গিয়েছে। ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিছু বলছেন না।’’ রাহুলের বক্তব্য, ‘‘এই পরিস্থিতিতে শক্ত হাতে হাল ধরা প্রয়োজন। অথচ ভারতের গদিতে একজন আপস করা প্রধানমন্ত্রী বসে রয়েছেন, যিনি দেশের রণকৌশলগত স্বাধীনতা সমর্পণ করে ফেলেছেন।’’
কংগ্রেস আজ ফের অভিযোগ তুলেছে, এক দিকে গৌতম আদানিকে আমেরিকার বিচারবিভাগের সমন, অন্য দিকে আমেরিকার হাতেথাকা এপস্টিন ফাইল—এই জোড়া আতঙ্কে মোদী সরকার আমেরিকার সামনে টুঁ শব্দ করতে পারছে না। কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ তুলেছেন, মোদী সরকারের ‘গ্যাং অব এপস্টিন’-এর দ্বারা বিদেশনীতি চালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাই আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের হত্যা নিয়ে নীরব। ভারতে আমদানি হওয়া অশোধিত তেল, গ্যাস, সারের মতো পণ্যবাহী ৩৭টি জাহাজহরমুজ় প্রণালীতে আটকে। কিন্তু সে জন্য মোদী সরকারের ইরানের কাছে সাহায্য চাওয়ার মুখ নেই। ভারতের আমন্ত্রণে আসা ইরানের জাহাজ আমেরিকা ডুবিয়ে দিলেও মোদী সরকার তার প্রতিবাদ করতেপারছে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)