গুজরাতে ভোট যত এগিয়ে আসছে, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত জেলবন্দি সুকেশ চন্দ্রশেখরের চিঠির সংখ্যা ততই বাড়ছে। আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ জানিয়ে দিল্লির লেফটেন্যান্ট জেনারেলের কাছে চিঠি লেখার পর এক সপ্তাহও পেরোয়নি, আবারও চিঠি লিখে ফেললেন ‘কনম্যান’ সুকেশ। সেখানে তাঁর দাবি, কেজরীওয়াল দুর্নীতিগ্রস্ত।
সাম্প্রতিক চিঠিতে জেলবন্দি ‘কনম্যান’ সুকেশ লিখেছেন, তিনি কেজরীওয়ালকে ২০১৫ থেকেই চেনেন। দক্ষিণ ভারতে তাঁকে আপের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে এই প্রতিশ্রুতিতে তিনি ৫০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘শ্রী কেজরীওয়াল, আপনার মতে আমি দেশের সবচেয়ে বড় ঠগ। তাহলে আপনি কেন ৫০ কোটি টাকা নিয়ে আমাকে রাজ্যসভার পদ দিতে চেয়েছিলেন? এর ফলে আপনি কি মহাঠগ হলেন না?’’
"Kejriwal Ji why you forced me to bring 20-30 individuals to contribute Rs 500 cr to the party in return of seats," reads Sukesh Chandrashekhar's letter that has been confirmed by his lawyer pic.twitter.com/ykRxNsJbyz
— ANI (@ANI) November 5, 2022
আরও পড়ুন:
এখানেই শেষ নয়, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত জেলবন্দি ওই ব্যক্তি চিঠিতে আরও লিখেছেন, কেজরীওয়াল তাঁকে ২০-৩০ জনকে যোগাড় করে আনতে বলেছিলেন, যাঁরা সম্মিলিত ভাবে আপকে ৫০০ কোটি টাকা দেবেন, এবং বিনিময়ে তাঁদের আসন দেওয়া হবে।
বর্তমানে দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি আছেন সুকেশ। বিভিন্ন ‘হাই প্রোফাইল’ এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে তোলা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। এর আগে তাঁর ঠিকানা ছিল দিল্লিরই তিহার জেল। কিন্তু সেখানে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কা আছে বলে দাবি করার পর সুকেশকে মান্ডোলি জেলে সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, এ সপ্তাহের শুরুতেই দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছে আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে চিঠি লিখেছিলেন সুকেশ। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমি আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈনকে ২০১৫ থেকে চিনি। রাজ্যসভার টিকিট এবং দক্ষিণ ভারতে আমাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে এই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে আমি আপকে ৫০ কোটি টাকা দিয়েছিলাম।’’
যদিও জেলবন্দি সুকেশের চিঠিকে কোনও গুরুত্বই দিতে চাননি গুজরাতে ভোটের প্রচাররত কেজরীওয়াল। তাঁর উল্টে দাবি, মোরবি বিপর্যয় থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে এই সব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘এ সব কার নির্দেশে হচ্ছে তা সবাই জানে। কিন্তু এ ভাবে গল্প ফেঁদে কি মানুষের নজর ঘোরানো যায়!’’
আর্থিক তছরুপের অভিযোগে এ বছর মে তে দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করে ইডি। তিনি এখনও জেলেই আছেন।