E-Paper

‘বিষাক্ত’ জলে দুই শহরে অসুস্থ বহু

গান্ধীনগরে জলবাহিত রোগের কারণে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভি সিভিল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৯

— প্রতীকী চিত্র।

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে দূষিত জল পান করে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই অভিযোগ উঠল গুজরাতের গান্ধীনগর এবং কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে। নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যের ওই শহরে শতাধিক ব্যক্তি জলবাহিত রোগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশাসন সূত্রের খবর, গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে কমপক্ষে ১০৪ জন চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ শিশু ও মহিলা। অসুস্থদের মধ্যে অনেকেই টাইফয়েডে আক্রান্ত। বেঙ্গালুরুর লিঙ্গরাজপুরমের বহু বাসিন্দা গত এক মাস ধরে জলবাহিত রোগে আক্রান্ত। প্রবল বমি, ডায়ারিয়া এবং পেটের রোগ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন গান্ধীনগরের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বেশ কয়েকবার তিনি জেলাশাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথাও বলেন।

গান্ধীনগরে জলবাহিত রোগের কারণে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভি সিভিল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উপমুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অসুস্থদের চিকিৎসায় ২২ জন চিকিৎসককে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। জেলার আধিকারিকদের পরিস্থিতির উপরে নজর রাখতে বলা হয়েছে। হর্ষ বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত ১০৪ জন সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি। প্রশাসন নজরদারি আরও জোরদার করেছে। রোগী ও তাঁর পরিজনের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’’

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত তিন দিনে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। সিভিল হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার মিতা পারিখ জানিয়েছেন, অসুস্থদের অবস্থা স্থিতিশীল। যে সব জায়গায় বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছেন, সেখানের জল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কী ভাবে জল সংক্রমিত হল, তা জানতে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ চালাচ্ছেন গান্ধীনগর পুরসভার কর্মী-আধিকারিকেরা। সূত্রের দাবি, কম করে সাতটি জায়গায় জলের পাইপ ফুটো হয়ে দূষিত জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশেছে।

জলবাহিত রোগ ছড়িয়েছে বেঙ্গালুরুর লিঙ্গরাজপুরম এলাকায়। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের অনেকেই পেটের রোগে ভুগছিলেন। প্রবল জ্বর ও বমিও হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে রোগের তীব্রতা আরও বেড়েছে। সবটাই ‘দূষিত’ জলের কারণে।

গত ২৯ ডিসেম্বর ইন্দোরের ভগীরথপুরায় ১০ জনের মৃত্যু এবং অনেকের অসুস্থতার খবরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তদন্তে নেমে ইন্দোর পুরসভা জানতে পারে, পুলিশ ফাঁড়ির শৌচাগার যে জায়গায় তৈরি, তার নীচের জলের পাইপ ফেটে গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শৌচাগার তৈরির সময় ওই পাইপ ফেটেছে। অসাবধানতার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে তার পরেও হেলদোল ছিল না পুলিশ প্রশাসনের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Contamination Indore Bengaluru Gandhinagar Gujarat Karnataka Madhya Pradesh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy