Advertisement
E-Paper

কলকাতার নানা প্রান্তে পালিত হচ্ছে চিনা নববর্ষ! ‘চাইনিজ়’ প্রেমীরা কি সে স্বাদে বঞ্চিত থাকবেন?

এই শহরেরই এক প্রান্তে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে এক অন্য রকম উৎসব। নিজেদের চন্দ্রবছর ‘ইয়ার অফ ফায়ার হর্স’ বা আগুনে ঘোড়ার বছরকে স্বাগত জানাচ্ছেন কলকাতার চিনারা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৮

ছবি : সংগৃহীত।

চিনা খাবার তিলোত্তমার নানা উদযাপনের সঙ্গী। কিন্তু চিনাদের নববর্ষ উদযাপনের খবর ক’জন রাখেন কলকাতায়? অথচ এই শহরেই চিনাদের পাড়া রয়েছে আড়াইশো বছরেরও বেশি সময় ধরে। ভারতের সবচেয়ে পুরনো চায়না টাউন কলকাতাতেই। চিনা সংস্কৃতি শুধু খাবারের প্লেটে নয়, বঙ্গের নানা অঙ্গে মিশেছে। এমনকি, এই শহর চিনাদের কালীপুজোরও সাক্ষী। কলকাতা-সহ গোটা বঙ্গের নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গী চিনা খাবার । ফি বছর ৩১ ডিসেম্বর বা ১ জানুয়ারি নববর্ষের ভোজ সারতে বহু বাঙালি ভিড় জমান কলকাতার চিনা পাড়ায়।

কেউ বছরের প্রথম প্রাতরাশ সারতে পুরনো চায়না টাউন টেরিটি বাজারে যান। কেউ নৈশভোজ সারতে যান ট্যাংরায়। চায়না টাউনের খাঁটি ইন্দো-চাইনিজ় খাবার চেখে দেখতে। এ বঙ্গে ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ স্লোগানের রাজনৈতিক তাৎপর্য পুরনো হয়ে যাওয়ার পরেও খাবারের থালায় সেই ভ্রাতৃত্ব এবং আকর্ষণ রয়ে গিয়েছে। হয়তো তাই এ শহরের পাড়ায় পাড়ায় বিরিয়ানির দোকান গজিয়ে ওঠার পরেও তার সঙ্গে টেক্কা দিয়ে বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে রাস্তার ধারের চাউমিনের স্টল।

সেই শহরেরই এক প্রান্তে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে এক অন্য রকম উৎসব।

চিনা পাড়ায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা লাল দেওয়ালের বাড়ির দরজায় ঝোলানো হয়েছে উজ্জ্বল লাল রঙের চৈনিক লিপি। চায়না টাউনের গলিপথ সেজে উঠেছে লাল লণ্ঠন আর উজ্জ্বল লাল হলুদের মিনিয়েচার আলোর চাঁদোয়ায়। চিনাপাড়ায় সপ্তাহান্তে হচ্ছে বিশেষ ড্রাগন ডান্স। সন্ধে নামলে ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের আওয়াজে জমজমাট হয়ে উঠছে ট্যাংরা ও টেরেটি বাজারের অলিগলি। রঙিন ড্রাগনের মুখোশ পরে এক অদ্ভুত ছন্দ তৈরি করে নাচছেন কলকাতার চিনা যুবকেরা। আর সেই মায়াময় আবহে চারপাশে চোখ বোলালেই চোখে পড়ছে লাল রং। কারণ, বাঙালির মতো চিনা সংস্কৃতিতেও লাল রং সৌভাগ্যের প্রতীক। আর এই ভাবেই নিজেদের ‘ইয়ার অফ ফায়ার হর্স’ বা আগুনে ঘোড়ার বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে কলকাতার চিনারা।

গত মঙ্গলবার থেকেই এ শহরের কিছু প্রান্তে শুরু হয়েছে চিনা নববর্ষের উদযাপন। যা চলবে ৩ মার্চ পর্যন্ত। আসলে চিনের নববর্ষ এক চন্দ্র উৎসব। যা চলে এক পক্ষ কাল। আর এই ‘লুনার নিউ ইয়ার’ পালিত হয় তার নিজস্ব ঐতিহ্যে। চিনারা একটু বেশি পরিবার কেন্দ্রিক। তাই চিনা নববর্ষের উদযাপনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে পরিবার। উৎসবের সকালে চার্চ বা প্যাগোডায় গিয়ে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন কলকাতার চিনারা। তার পরে শুরু করেন দিন। বড়রা লাল রঙের খাম ‘হংবো’য় ভরে টাকা বা উপহার দেন বাড়ির ছোটদের। কামনা করেন আগামী বছরের সমৃদ্ধির। আর হয় পরিবারকে নিয়ে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া। পাতে থাকে মাছ, ডাম্পলিং, চিনা কেকও।

ইংরেজি বা বাংলা নববর্ষ নিয়ে বাঙালি যতটা উৎসাহী, তার সিকিমাত্র উন্মাদনা চিনা নববর্ষের উদযাপনে দেখা যায় না সচরাচর। তবে উৎসব প্রেমী বাঙালি উৎসব থেকে কতদিনই বা দূরে থাকতে পারে। তাই ক্রমশ চিনা নববর্ষের উদযাপনের স্বাদও আপন করছে বাঙালি। তার প্রভাব পড়ছে বাঙালির দৈনন্দিন ঠিকানাগুলিতে। রেস্তোরাঁয়, ক্লাবে চোখে পড়ছে চিনা নববর্ষের থিম। সাজসজ্জায় তো বটেই মেনু কার্ডও সাজছে অন্য রকম চিনা খাবারে।

কোথায় খেতে যাবেন

মেনল্যান্ড চায়না

কলকাতার চিনা খাবারের কথা উঠলে মেনল্যান্ড চায়নার কথাও উঠে আসে। চিনা নববর্ষে সেখানে চলছে উদযাপন। মেনুতে থাকছে নতুনত্ব, নুড্‌লস, রাইসের পাশাপাশি পানিফল আর কাপা ক্যাবেজের গিয়োজ়া ডিমসাম, ট্রাফল ইনফিউজ়ড ভেজিটেবল টেম্পুরা। কওলুন ক্র্যাব র‌্যাপস, মাটির পাত্রে হট বেসিল ফিশ ইত্যাদি থাকছে ।

ইয়াচা

ইংরেজি আর বাঙালি নববর্ষ বিশেষ মেনুতে উদযাপন করেছে ইয়াচা। আর এ বার চিনা নববর্ষেও সাজিয়েছে বিশেষ মেনু। তাতে সিফুডের সম্ভার দেখার মতো। থাকছে কুমকত গ্লেজ়ড প্রন, স্টিমড লিক অ্যান্ড কর্ন রোলস ই ব্ল্যাক পিপার সস, শ্রিম্প অ্যান্ড ক্যারট ডাম্পলিং। এ ছাড়া ফ্রায়েড চিকেন ইন সাচা সস, টোবান চিলি লেসড পর্ক বেলি। ম্যান্ডারিন ক্রেমু, ম্যান্ডারিন কম্পোটের মতো শেষপাতের মিষ্টিমুখও থাকছে।

কিমলি

পূর্ণদাস রোডের রেস্তরাঁ কিমলি চিনা নববর্ষে পরিবেশন করবে ট্যাংরা স্টাইল চিনা খাবার। ফলে কলকাতার খাঁটি ইন্দো-চিনা খাবারের স্বাদ পাওয়া যাবে সেখানে গেলে।

ইন ইয়াং

সল্টলেক সেক্টর২-এর ইনইয়াং আবার চিনা নববর্ষ উপলক্ষে বুফের আয়োজন করেছেন জন প্রতি ৭৯৯ টাকায়। থাকবে ১৩ রকমের খাবার আর তিন রকমের মিষ্টি। তবে এর পাশাপাশি এদের আকর্ষণীয় চিনা মেনু থেকে যে কোনও খাবার বেছে নিয়েও চিনা নববর্ষ উদযাপন করতে পারেন আপনি।

চাউম্যান

চিনা খাবারের জন্য জনপ্রিয় চাউম্যানও। চিনা নববর্ষের রেশ মিলবে সেখানে গেলেও। অন্দরসজ্জায় তো বটেই। মেনুতেও পছন্দের ইন্দো চিনা খাবার অর্ডার করতে পারেন এখানে এলে।

Chinese new year celebration Chinese new year in Kolkata
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy