সেনা অভিযানে মৃত্যু হয়েছে মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক চোরাচালানকারী নেমেসিয়ো ওসেগুয়েরা ওরফে এল মেঞ্চোর। তার পরেই উত্তর আমেরিকা মহাদেশের এই দেশটির নানা অংশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মেঞ্চোর অনুগামীরা বাস-গাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছেন। বন্দুকধারীরা রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সে দেশে থাকা ভারতীয়দের জন্য একগুচ্ছ সতর্কবার্তা দিল মেক্সিকোর ভারতীয় দূতাবাস।
মেক্সিকোর ভারতীয় দূতাবাসের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে পরবর্তী ঘোষণা না-হওয়া পর্যন্ত দেশের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে মেক্সিকোর নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গার নাম করে বিশেষ সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
দেশের নাগরিকদের জন্য ভারতীয় দূতাবাসের বার্তা ১) সেনা অভিযান চলছে, এমন জায়গাগুলি এড়িয়ে চলুন। ২) আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সজাগ থাকুন। ৩) নিরাপদ আশ্রয়স্থলে থাকুন, অহেতুক বাইরে বেরোবেন না। ৪) পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির উপর নজর রাখুন। ৫) স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন, যে কোনও প্রয়োজনে আপৎকালীন নম্বর ৯১১-তে ফোন করুন। ৬) ভিড় এড়িয়ে চলুন। ৭) আপনার এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্ধু-পরিচিতদের অবগত করুন।
আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপেই মেক্সিকোর বাহিনী নেমেসিয়োর বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছিল। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মেক্সিকো কর্তৃপক্ষও। এর আগে ট্রাম্প একাধিক বার হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সে দেশের সরকার অবিলম্বে পদক্ষেপ না-করলে মার্কিন বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে।
৬০ বছর বয়সি মেঞ্চো একসময় পুলিশ আধিকারিক ছিলেন। পরে মাদক পাচারের দুনিয়ায় পা রাখেন। বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত (মোস্ট ওয়ান্টেড) মাদক পাচারকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। শুধু মাদক পাচার নয়, খুন, চাঁদাবাজি, মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। আমেরিকা-সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘ দিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল। মেক্সিকোর অপরাধ জগতে তাঁর সীমাহীন প্রতিপত্তি ছিল। প্রভাব ছিল রাজনীতিতেও। রবিবার সেনাবাহিনীর অভিযানে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে হেফাজতেই তাঁর মৃত্যু হয়। বিকেলে (স্থানীয় সময়) ন্যাশনাল গার্ডের কড়া প্রহরায় মেঞ্চোর মরদেহ নিয়ে আসা হয় মেক্সিকো সিটিতে। কিন্তু অশান্তি ঠেকানো যায়নি। মেঞ্চোর অনুগামীরা দেশের নানা প্রান্তে রাস্তা অবরোধ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন।