সত্তর লাখি গাড়ি চাই। কিন্তু কাজের বেলায়?
প্রধানমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী-সাংসদদের দুর্নীতি দমনে তৈরি লোকপালের সদস্যেরা যখন ৭০ লক্ষ টাকার গাড়ি চাপতে চাইছেন, তখন তাঁরা কী কাজ করছেন, লোকপালের কার্যকারিতা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। বিরোধীদের অভিযোগ, লোকপাল কাজ শুরুর পরে ৮,৭০৩টি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার মধ্যে ২৪টি ঘটনায় তদন্ত হয়েছে।
লোকপাল সম্প্রতি তার চেয়ারপার্সন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এম খানউইলকর ও বাকি ছয় সদস্যদের জন্য সাতটি ৭০ লক্ষ টাকা দামের বিএমডব্লিউ গাড়ি কেনার দরপত্র আহ্বান করেছে। ইউপিএ আমলে অণ্ণা হজারে-অরবিন্দ কেজরীওয়ালের দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলনের দাবিতে লোকপাল গঠন করতে আইন পাশ হয়েছিল।
কংগ্রেস সাংসদ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘আমি লোকপাল নিয়ে সংসদীয় কমিটির প্রধান ছিলাম। এখন সেই দুর্নীতি দমন সংস্থাকে বিএমডব্লিউ কেনার বরাত দিতে দেখাটা দুঃখজনক বিড়ম্বনা।’’ তাঁর অভিযোগ, লোকপালের কাছে ৮,৭০৩টি অভিযোগের মধ্যে ২৪টি ক্ষেত্রে তদন্ত হয়েছে। ছ’টি ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। লোকপাল আসলে ‘কাগুজে বাঘ’-এ পরিণত হয়েছে।
আজ এক প্রবীণ তৃণমূল সাংসদের যুক্তি, মোদী সরকার প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণের বিল এনেছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্র বা রাজ্যের মন্ত্রীরা গুরুতর অভিযোগে টানা ৩০ দিন ধরে হেফাজতে থাকলে ৩১-তম দিনে তাঁকে পদ থেকে সরতে হবে। লোকপাল, লোকায়ুক্ত কার্যকারিতার সঙ্গে কাজ করলে এই আইনের প্রয়োজন পড়ত না।
কংগ্রেসের জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, লোকপাল এখন ‘শোকপাল’-এ পরিণত। অণ্ণা, কেজরীওয়াল, আরএসএস লোকপালের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রচার করেছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, এখন অণ্ণা, কেজরীওয়ালরা চুপ কেন? ২০১৩ সালে লোকপাল আইন পাশ হলেও মোদী সরকার ২০১৯ পর্যন্ত লোকপাল নিয়োগ করেনি।
লোকপাল সূত্রে দাবি, আইন মেনে লোকপালের চেয়ারপার্সন ও সদস্যদের বেতন, ভাতা, সুবিধার শর্তানুসারে বিএমডব্লিউ গাড়ির বরাত দেওয়া হয়েছে। লোকপালের চেয়ারপার্সন দেশের প্রধান বিচারপতির সমান সুযোগ-সুবিধা ও লোকপালের অন্য সদস্যরা সুপ্রিম
কোর্টের বিচারপতিদের সমান সুবিধা পাবেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ের অভিযোগ, ‘‘লোকপালের বিচারবিভাগীয় সদস্যরা অবসরের পরে লোকপালের সদস্য হয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সমান হতে চাইছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)