E-Paper

জ্বালানি-সঙ্কটে শঙ্কার মেঘ পদ্মশিবিরে

ভোট ঘোষণার ঠিক আগেই যে ভাবে জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে জনমানসে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে, তাতে আগামী এক থেকে দেড় মাস দলের সামনে কঠিন সময় বলে মনে করছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৬

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত গড়িয়েছে মাত্র দু’সপ্তাহ। এর মধ্যেই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে রান্নার গ্যাসের জোগান। সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারের জ্বালানি নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব বিরোধীরা। পাঁচ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে গ্যাস-তেলের সঙ্কটে সিঁদুরে মেঘ গেরুয়া শিবিরে।

পরিস্থিতি যা তাতে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে চলেছেন পাঁচ রাজ্যের ভোটাদাতারা। কিন্তু ভোট ঘোষণার ঠিক আগেই যে ভাবে জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে জনমানসে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে, তাতে আগামী এক থেকে দেড় মাস দলের সামনে কঠিন সময় বলে মনে করছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের এক নেতার স্বগতোক্তি, ‘‘সরাসরি আমাদের কোনও দোষ না থাকলেও, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে আমাদের। যার সুযোগ নিচ্ছেন বিরোধীরা।’’

সরকারের উপর চাপ বাড়াতে আজও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং জ্বালানি-সঙ্কট নিয়ে আলোচনার দাবিতে সংসদের ভিতরে সরব হন বিরোধীরা। যা নাকচ করে দেয় শাসক শিবির। আর সংসদের বাইরে মকর দ্বারের সামনে গ্যাস সিলিন্ডারের কাটআউট নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী দলের সাংসদেরা। স্লোগান ওঠে, ‘‘কাতার মে খাড়ে হিন্দুস্তান, মোদী ঘুমে চিন-জাপান (লাইনে দাঁড়িয়ে হিন্দুস্তানের মানুষ, তখন মোদী চিন-জাপান ভ্রমণ করছেন)।’’ লোকসভাতেও অতিরিক্ত ব্যয়বরাদ্দ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের জবাবি ভাষণের সময়ে বিরোধীরা ‘‘মোদীজি-এলপিজি, সভাপতিজি-এলপিজি’ বলে স্লোগান তুলে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

বিরোধীদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, তা সরকার আগে থেকেই জানত।বিশেষ করে দেশের প্রয়োজনীয় গ্যাসের বড় অংশই যেখানে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আসে। সেখানে সংঘাতের পরিস্থিতিতে জোগান যে ব্যাহত হতে পারে, তা বুঝে সরকারের উচিত ছিল আগে থেকেই রান্নার গ্যাস মজুতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা। কংগ্রেসের এক সাংসদ বলেন, ‘‘আগেভাগে পদক্ষেপ করলে সরকারি স্কুলগুলিকে মিড-ডে মিলের রান্না বন্ধ করতে হত না। রাজধানীর হোটেলগুলিকে কাঠকয়লা জোগাড় করার পিছনে ছুটতে হত না। বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়াত না একাধিক ক্যান্টিন।’’ তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের মতে, আমজনতার বিষয়টি নিয়ে প্রথম সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরই নির্দেশে রান্নার গ্যাসের অপ্রতুলতা নিয়ে তৃণমূল প্রথম সংসদে ধর্না শুরু করে। তার পরে কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধীরা এসে যোগ দেয়।

পেট্রল-ডিজেলের পরিবর্তে রান্নার গ্যাস নিয়ে সমস্যা হওয়ায় বেজায় অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি মানুষের খিদে জড়িয়ে। সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনায় মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে নিজেদের রাজ্যে পথে নেমেছেন তৃণমূল বা ডিএমকের মতো বিরোধী দলগুলি। সংঘাত যদি ভোটের সময় পর্যন্তগড়ায় এবং আগামী দিনে গ্যাস সিলিন্ডার বণ্টনের প্রশ্নে কড়া ‘রেশনিং নীতি’ নিতে হয় কেন্দ্রেকে, তা হলে যাবতীয় দায় বিজেপির উপর এসে পড়বে। যা ভোটের বাজারে দলের বিপক্ষে যাবে বলেই মনে করছেন এক বঙ্গ বিজেপি সাংসদ। তাঁর কথায়, ‘‘আমজনতার রান্নাঘরের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিষয়টি। যতই সাফাই দেওয়া হোক, এ ক্ষেত্রে কোনও যুক্তিই ধোপে টিকবে না। গ্যাসের সিলিন্ডার চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবেকেন্দ্রকে। তবেই মানুষের মনে বিশ্বাস ফিরবে।’’ বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন, রান্নার গ্যাসের সমস্যা যদি আগামী দিনেও বজায় থাকে সে ক্ষেত্রে মানুষের বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবেদলীয় প্রার্থীকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Cooking Gas Fuel LPG Gas

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy