×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ মে ২০২১ ই-পেপার

সচিনদের আবেদন আদালতের বিচার্য নয়, দাবি সিঙ্ঘভির

সংবাদ সংস্থা
জয়পুর ও নয়াদিল্লি ২০ জুলাই ২০২০ ১৩:৫০
রাজস্থান হাইকোর্টে সচিন শিবিরের আবেদনের শুনানি— ফাইল চিত্র।

রাজস্থান হাইকোর্টে সচিন শিবিরের আবেদনের শুনানি— ফাইল চিত্র।

রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার সি পি জোশীর নোটিস জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সচিন পাইলট-সহ বিদ্রোহী ১৯ জন কংগ্রেস বিধায়কের আবেদন শুনানি শুরু হল। সোমবার সকালে জোধপুর হাইকোর্টের জয়পুর বেঞ্চে শুনানি-পর্বে স্পিকারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি স্পিকারের জারি করা নোটিস সম্পর্কে শুনানির ক্ষেত্রে আদালতের এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘সচিন পাইলট বা তাঁর শিবিরের কারও বিধায়ক পদ এখন স্পিকার খারিজ করেননি। শুধুমাত্র তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস দিয়েছেন। কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচিত বিধায়কদের ক্ষেত্রে এমন নোটিস পাঠানোর সাংবিধানিক অধিকার স্পিকারের রয়েছে। এ নিয়ে শুনানি বিচার বিভাগের ক্ষমতা বহির্ভূত।’’

শুনানি-পর্বে আজ সিঙ্ঘঙি জানান, কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সদস্যপদ খারিজের আবেদন এলে সংশ্লিষ্ট বিধায়কের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস পাঠাতে হয়। সংবিধানের দশম তফসিলের ২(১-এ) ধারা অনুযায়ী নোটিস পাঠিয়েছেন স্পিকার জোশী। তিনি কোনও অসাংবিধানিক পদক্ষেপ করেননি। প্রধান বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ মহান্তি এবং বিচারপতি প্রকাশ গুপ্তর বেঞ্চে সিঙ্ঘভির মন্তব্য, ‘‘যদি স্পিকার সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিরুদ্ধে সদস্যপদ খারিজ বা অন্য কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন তবেই আদালতে বিষয়টি নিয়ে শুনানি হতে পারে। তার আগে নয়।’’ সচিন শিবিরের তরফে এদিন সাফাই দেওয়া হয়, সংবিধানের দশম তফসিলের ২(১-এ) ধারা অনুযায়ী দলীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করলে তাকে দলত্যাগ বিরোধী পদক্ষেপ বলা যায় না।

বিধায়ক কেনাবেচার দায়ে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াত এদিন বলেন, ‘‘আমি নির্দোষ। যে কোনও তদন্তের মুখোমুখি হতেও রাজি।’’ ফাঁস হওয়া দু’টি অডিয়ো টেপের জেরে ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্তে গঠিত রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) গজেন্দ্রকে নোটিস পাঠিয়েছে। অডিয়ো টেপে শোনা যাচ্ছে, বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়ক ভাঁওয়ারলাল শর্মাকে রাজস্থানে সরকার ফেলে দেওয়ার জন্য টাকার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, যাঁরা প্রস্তাব দিচ্ছেন তাঁদের মধ্যে একটি গলা কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্রর। অন্যদিকে, টেপ ফাঁসের জেরে বেআইনি ভাবে ফোনে আড়িপাতার অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজস্থান সরকারকে পাল্টা নোটিস পাঠিয়েছে। মুখ্যসচিব সেই নোটিসের জবাব দেবেন বলে রাজ্য সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন: সচিনরা কোথায়? ফের মানেসরের রিসর্টে হানা রাজস্থান পুলিশের

সচিন পাইলট ও তাঁর অনুগামী বিধায়কদের সন্ধানে রবিবার সন্ধ্যায় হরিয়ানার মানেসরের রিসর্টে গিয়েছিলেন এসওজি-র আধিকারিকেরা। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ঢুকতে না পেরে বাধ্য হয়ে ফিরে আসেন তাঁরা। অভিযোগ, বিজেপি শাসিত হরিয়ানার পুলিশ কোনও সাহায্য করেনি এসওজি অফিসারদের। অভিযুক্ত বিধায়ক ভাঁওয়ারলালের কণ্ঠস্বরের নমুনাও তাঁদের সংগ্রহ করতে দেওয়া হয়নি। রাজস্থান কংগ্রেস সূত্রের খবর, বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ ফের দলে ফিরতে চেয়েছেন। তবে তাঁদের বিষয়ে পৃথক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভাওয়াঁরলাল বা বিশ্বেন্দ্রর মতো বিজেপি ঘনিষ্ঠদের দলে ফেরানোর বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত

আরও পড়ুন: দ্রুত আস্থা ভোট চান গহলৌত​

Advertisement