E-Paper

বিজয়নের হ্যাটট্রিক, এসআইআর-জের ভোটদানে, হিসেব বামের

তিরুঅনন্তপুরমে সিপিএমের রাজ্য দফতর এ কে জি সেন্টারে ভোটের পরে জেলাভিত্তিক রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে। প্রাথমিক সেই পর্যালোচনা অনুযায়ী, রাজ্যে গত দু’বার এলডিএফের ফলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ বারও ৯০-এর বেশি আসন পাওয়ার হিসেবই উঠে এসেছে।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৩
সিপিএমের কেরল রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন মাস্টার। তিরুঅনন্তপুরমে।

সিপিএমের কেরল রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন মাস্টার। তিরুঅনন্তপুরমে। — নিজস্ব চিত্র।

ভোটদানে বাড়তি উৎসাহ প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার হাওয়াই বুঝিয়ে দিচ্ছে বলে দাবি করেছে বিরোধীরা। কিন্তু নির্বাচনের পরে প্রাথমিক পর্যালোচনা সেরে সিপিএমের পাল্টা দাবি, পিনারাই বিজয়নের সরকারের হ্যাটট্রিক হতে চলেছে কেরলে! ভোটের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঘটনাকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) ফল বলেই মনে করছে শাসক দল।

তিরুঅনন্তপুরমে সিপিএমের রাজ্য দফতর এ কে জি সেন্টারে ভোটের পরে জেলাভিত্তিক রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে। প্রাথমিক সেই পর্যালোচনা অনুযায়ী, রাজ্যে গত দু’বার এলডিএফের ফলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ বারও ৯০-এর বেশি আসন পাওয়ার হিসেবই উঠে এসেছে। দু’বছর আগে লোকসভা নির্বাচনের ফলের বিধানসভাভিত্তিক হিসেবে, কেরলে বামেরা এগিয়ে ছিল ৬৪ আসনে। অর্থাৎ ওই ভোটের নিরিখে সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছিল। তবে সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের মাপকাঠি আলাদা। রাজ্যে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই বিজয়নের সরকার ফের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন বলে সিপিএমের জেলা নেতৃত্বের দাবি। ভোটের পরে বিজেপি দাবি করেছে, কেরলে এ বার ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে সিপিএম। ত্রিশূর লোকসভা কেন্দ্র ও তিরুঅনন্তরপুরমের মধ্যে কয়েকটি বিধানসভা আসন ছাড়া বিজেপি ফলাফল ঘোরাতে পারবে না বলেই তাদের দাবি।

রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান ধরে সিপিএমের বক্তব্য, কেরলে এসআইআর-এর পরে মোট ৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটারের সংখ্যা কমে গিয়েছে। তার মধ্যে তিরুঅনন্তপুরম কেন্দ্রে সর্বাধিক ৪৭ হাজার ৬৪৭ জন ভোটার হ্রাস পেয়েছে। এই বারের ভোটে ৭১টি বিধানসভা কেন্দ্রে পাঁচ বছর আগের তুলনায় ভোটের হার কম হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন মাস্টারের কথায়, ‘‘গত বার বিধানসভা ভোটে দু’কোটি ৯ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। এ বার ভোট পড়েছে দু’কোটি ৮ লক্ষ। সুতরাং, ভোট বেশি পড়েছে, ঘটনা তা নয়। এসআইআর-এর জেরে ভোটার কমেছে বলে ভোটদানের হার বেশি মনে হচ্ছে।’’

অন্য দিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ শিবিরের প্রাথমিক হিসেব বলছে, প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার ঢেউই তাদের ক্ষমতায় পৌঁছে দেবে। পালাক্কাড, আলাপ্পুঝা, এর্নাকুলম, কাসারগোড় ও মলপ্পুরম জেলায় সর্বাধিক আসন জেতার আশা করছে তারা। যদিও সিপিএমের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দক্ষিণ ও মধ্য কেরলে তারা তেমন কোনও ধাক্কার আশঙ্কা দেখছে না। তাদের যুক্তি, সংখ্যালঘুদের মধ্যে ক্ষোভ আছে এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ার কারণে। কিন্তু সেই ক্ষোভ থেকে তাঁদের বড় অংশ বামেদের থেকে মুখ ফিরিয়ে কংগ্রেসের দিকে চলে যাবেন, এমন হওয়ার কারণ দেখছে না সিপিএম। সেই সঙ্গে ইঢ়াভা সম্প্রদায়ের সমর্থনও বড় আকারেই পাওয়ার আশা করছে তারা।

বিরোধী দলনেতা, কংগ্রেসের ভি ডি সতীশন আগেই দাবি করেছিলেন, ইউডিএফ এ বার ১০০ আসন না-পেলে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন! সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক গোবিন্দন পাল্টা বলছেন, ‘‘বিজয়নের নেতৃত্বে বাম সরকারের প্রত্যাবর্তনই হতে চলেছে। বিরোধী দলনেতা এক জন বর্ষীয়ান রাজনীতিক, জনজীবনেই তাঁর থাকা উচিত। ওই ধরনের মম্তব্য মানুষ ক্ষমা করে দেবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Pinarayi Vijayan Left Front

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy