E-Paper

দলবদলু-ভিড় বিজেপির প্রার্থী তালিকায়, খোঁচা

২০১৫ সালে হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে দলের বড় অংশের বাধা না মেনে বিজেপিতে নিয়ে এসেছিলেন তদনীন্তন সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য। তালিকা ঘোষণার দিন সকালেও তিনি নিউ গুয়াহাটির জনতার জন্য কাজ করবেন বলে ফেসবুকে জনসম্পর্কের ছবি লাগিয়েছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫২

—প্রতীকী চিত্র।

অসমে বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরে কংগ্রেস শিবিরে খুশির হাওয়া! কংগ্রেসের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য তাদের প্রচারের অন্যতম বড় হাতিয়ারই ছিল এটা প্রমাণ করা যে বর্তমান বিজেপি আদতে দলবদলু কংগ্রেসীদের দল। যেখানে মতবাদ নয়, সুবিধাবাদের প্রাধান্য। বিজেপি যে ৮৮ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে হিমন্তবিশ্ব শর্মা-সহ ২৮টি নামই প্রাক্তন কংগ্রেসীদের। অসম গণ পরিষদ (অগপ)-এর তালিকা ধরলে সংখ্যাটি ৩০। ১৯ জন বর্তমান মন্ত্রী-বিধায়কের নাম বাদ দিয়েছে বিজেপি। তাঁদের মধ্যে কেউ পদত্যাগ করেছেন। অনেকে নির্দল লড়বেন বলে জানিয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্ব এখন সেই বিদ্রোহ সামলাতে ব্যস্ত। আর কংগ্রেস ব্যস্ত বিজেপির বিদ্রোহ, আর সে দলে পুরনো কংগ্রেসীদের ভিড়ের চাপে ‘প্রকৃত’ বিজেপি নেতাদের দুরবস্থার ছবি জনতার সামনেতুলে ধরতে।

২০১৫ সালে হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে দলের বড় অংশের বাধা না মেনে বিজেপিতে নিয়ে এসেছিলেন তদনীন্তন সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য। তালিকা ঘোষণার দিন সকালেও তিনি নিউ গুয়াহাটির জনতার জন্য কাজ করবেন বলে ফেসবুকে জনসম্পর্কের ছবি লাগিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকেই বাদ দিলেন হিমন্ত।

মধ্য গুয়াহাটিতে আদতে বিহারি বিজয়কুমার গুপ্তাকে প্রার্থী করায় দলে এমন ক্ষোভ যে বিজেপির একাংশ সেখানে বিরোধীদের জেতাবেন বলে ফোনাফুনি শুরু করেছেন। এই এলাকায় তিরিশ বছর ধরে বিধায়ক রয়েছেন অগপ-র রমেন্দ্র নারায়ণ কলিতা। কিন্তু বিজেপি এ বার গুয়াহাটির একটিও আসন অগপ-কে ছাড়েনি। বদলে এ ভাবে হিন্দিভাষীকে প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ রমেন্দ্র ও তাঁর অনুগামীরা কী করেন, তা-ও দেখার।

দিসপুরে তিন দশক বিধায়ক থাকা প্রাক্তন মন্ত্রী অতুল বরা বলেছিলেন, মানুষ তো বটেই এখানকার পশু-পাখিরাও জানে তিনিই প্রার্থী হচ্ছেন। কিন্তু তাঁর বদলে সদ্য কংগ্রেস থেকে যোগ দেওয়া সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈকে প্রার্থী করার পরে তিনি বলেন, “আমি কংগ্রেস প্রার্থী মীরা বরঠাকুরকে সমর্থন জানাব, না হলে নিজেই নির্দল লড়ব— সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” পরিস্থিতি এমন, তালিকা প্রকাশের আগে বিজেপির জয় যতটা সহজ মনে হচ্ছিল, তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যাচ্ছে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা প্রবল।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকিয়ার সঙ্গেও হিমন্ত-শিবিরের দ্বন্দ্ব ছাইচাপা আগুনের মতো জ্বলছে। শোনা যাচ্ছে, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে তা রাজ্য সভাপতিকেই দেখানো হয়নি। টিকিট পাননি সর্বানন্দের অনুগামীরা। সর্বানন্দ বনাম হিমন্তের সেই রেষারেষিকে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ সব সভা, সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরছেন। তাঁর গলায় ঝরে পড়ছে সর্বানন্দর প্রতি কৌশলী সহানুভূতি।

অগপ-র অবস্থাও ভাল নয়। এত দিন ‘বিদেশি’, ‘বহিরাগত’, ‘মোঘল’ বলে দাগিয়ে দেওয়া কংগ্রেস ও ইউডিএফের সংখ্যালঘু নেতা-বিধায়কদের দল ভাঙিয়ে মিত্রদল অগপ-য় জমা করছেন হিমন্ত। নিজেদের সনাতনি প্রমাণে এ বার একজনও মুসলিম প্রার্থী দেয়নি বিজেপি। কিন্তু অগপ-র এমন অবস্থা করেছেন যে, বাংলাদেশি বিতাড়ণে অসম আন্দোলন করা নেতাদের দলে ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনই সংখ্যালঘু! কংগ্রেস বলছে, ‘অসমিয়া আত্মসম্মান ও জাতীয়তাবাদের ধ্বজাধারী দলের তালিকা দেখলে মনে হচ্ছে, তা ইউডিএফের প্রার্থী তালিকা। হিমন্ত অগপকে অস্তিত্বহীন ও অসম আন্দোলনের ৮৬০ শহীদের বলিদান মূল্যহীন করে দিয়েছেন।’

কংগ্রেস ইতিমধ্যে রাইজর দল, অসম জাতীয় পরিষদ, সিপিএম, এপিএইচএলসি-সহ ৬টি দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। রাইজর দলকে দেওয়া হয়েছে ১১টি আসন। এআইসিসি-র দাবি, গত বার এনডিএ ও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে ভোটের হারে ১ শতাংশের ফারাক ছিল। কিন্তু এ বার জয়ের সম্ভাবনা থাকা প্রার্থীদেরই টিকিট দেওয়া হয়েছে। জোটও হয়েছে জবরদস্ত। অন্য দিকে এ দিন রাতে ১৭ জনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে অসম তৃণমূল।

অবশ্য আজ জালুকবাড়ি থেকে বিরাট শোভাযাত্রা করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে হিমন্ত বলেন, “বিরোধী জোট তৈরি হয়েছে ভোটের বিশ দিন আগে। অন্তত ২ মাস আগে জোট গড়া হলে তা-ও লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল।” তাঁর ব্যাঙ্গোক্তি, “আমি চাই রাজ্যে বিরোধী দল থাকুক। কিন্তু মানুষ বিরোধী দল হিসেবে কাউকে চাইছে না। তারা কংগ্রেসকে ভোট দেবে কী না সন্দেহ আছে। বিরোধী দল থেকে আরও নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। প্রত্যেক হিন্দুকে বিজেপির ছাতার নীচে আনাই আমার লক্ষ্য।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Congress

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy