জেএনইউ-জামিয়া-শাহিনবাগের বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মধ্যেই ৫০ দিন পেরিয়ে গেল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক সময়ের (অ্যাড-হক) শিক্ষকদের ধর্না।
ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংগঠনের (ডিইউটিএ) সভাপতি রাজীব রায় বলেন, ‘‘যে পাঁচটি দাবি আমরা রেখেছিলাম, তার মধ্যে তিনটি মানা হয়েছে। বাকি দু’টি না-মানায় জারি রয়েছে ধর্না। তবে আলোচনা চলছে।’’
ডিইউটিএ-র প্রাক্তন সভাপতি আদিত্য নারায়ণ মিশ্রের অভিযোগ, সাড়ে চার হাজারের বেশি অ্যাড-হক শিক্ষকের উপরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার স্বীকৃত কলেজগুলির পড়াশোনা অনেকাংশে নির্ভরশীল। গত বছর উপাচার্য যোগেশ ত্যাগী একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নেন, এ বার থেকে অ্যাড-হক শিক্ষক নিয়োগের বদলে নেওয়া হবে অতিথি শিক্ষক (গেস্ট ফ্যাকাল্টি)। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গত ২৮ অগস্ট সমস্ত প্রিন্সিপালকে চিঠি দেন তিনি।
তার পর থেকেই বিক্ষোভ দানা বাঁধে। ৪ ডিসেম্বর উপাচার্য়ের অফিস ঘেরাও হয়। সে দিন থেকেই শুরু হয় ওই অফিসের অদূরে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা ধর্না। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট চললেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। ধর্না এখনও জারি। ধর্নায় শামিল মনোজ কুমার, হিমাংশু সিংহ, বৈশালী, সন্তোষ, রীতু সিংহরা বলেন, ‘‘৪ ডিসেম্বর থেকে খোলা আকাশের নীচে এই ধর্না চলছে।’’
রাজীবের দাবি, অ্যাড-হক শিক্ষক নিয়োগের দাবি মেনেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। ফলে কারও কাজ খোয়ানোর সম্ভাবনা আপাতত নেই। কিন্তু আন্দোলনকারীদের দাবি, যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে অ্যাড-হক শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন, তাঁদের পূর্ণ সময়ের শিক্ষকের স্বীকৃতি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে, পদোন্নতির বিচারের সময়ে গণ্য করা হোক অ্যাড-হক শিক্ষক হিসেবে তাঁদের অভিজ্ঞতাকেও। মাঝে ডিইউটিএ ও উপাচার্যের সঙ্গে বার কয়েক বৈঠক করেছে মন্ত্রক। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের আর্জি জানিয়েছে ধর্না তোলার জন্য। কিন্তু ওই দুই দাবি মানার কথা বলেনি।
আদিত্যের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত নিয়মেই অ্যাড-হক শিক্ষক দিয়ে কাজ চালানো জায়গায় চার মাসের মধ্যে পূর্ণ সময়ের শিক্ষক নিয়োগের কথা লেখা আছে। অথচ অনেকে সেই হিসেবে কাজ করেছেন ৩, ৫ এমনকি ১০ বছরেরও বেশি।