বিরোধীদের দাবি সত্ত্বেও আপাতত সাসপেন্ড হওয়া সাংসদের শাস্তি কমাতে রাজি নয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। উল্টে রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধীদের একাংশ যে ভাবে দিনের পর দিন সংসদের মকর দ্বারের সামনে চা-কফি পান করে আড্ডার মজলিস গড়ে তুলছেন, এখন সেই সাংসদদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা ভাবছে শাসক শিবির।
গত কালের মতোই আজও অধিবেশন শুরু হতেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ ও এ দেশে জ্বালানি সঙ্কটের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার দাবিতে সরব হন বিরোধীরা। বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদেরা ওয়েলে নেমে এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। যা দেখে ক্ষুব্ধ স্পিকার বলেন, ‘‘আমি আপনাদের কাছে আবার অনুরোধ করছি যে, সংসদ কক্ষের এবং কক্ষের বাইরে পবিত্রতা, মর্যাদা এবং প্রতিষ্ঠা বজায় রাখার দায়িত্ব সকলের। ...আপনাদের বলার যখন সুযোগ দেওয়া হয়, তখন আপনারা বলেন না। অথচ সংসদ চলতে বাধা দেন।’’ স্পিকারের দাবি, এ ধরনের বাধাদানের ঘটনা সংসদীয় মর্যাদার পরিপন্থী। স্পিকারের পরামর্শ, ‘‘যদি কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান, তা হলে প্রশ্নোত্তর পর্বের পরে তা হতে পরে।’’ যদিও বিরোধীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় বেলা বারোটা পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার ওম বিড়লা।
লোকসভা কক্ষে ‘অভব্য আচরণে’র জন্য গত প্রায় চল্লিশ দিন ধরে সাসপেন্ড রয়েছেন বিরোধী দলগুলির আট সাংসদ। আজ হইচইয়ের মধ্যেই বিহারের কিষাণগঞ্জের কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাভেদ সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের ক্ষমা করে দেওয়ার সুপারিশ করে বিড়লার কাছে অনুরোধ করেন। এ ধরনের ‘অভব্য আচরণের’ ঘটনা নরেন্দ্র মোদী সরকার যে ভাল ভাবে নিচ্ছে না, তা স্পষ্ট হয়ে যায় স্পিকারের কথাতেই। তিনি জানান, ‘‘সভার মধ্যে বেঞ্চে উঠে এমন করলে, শাস্তি হবেই। এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ রাখা উচিত নয়।’’ পাশাপাশি, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে গত কালের একটি ছবি তুলে ধরে দেখান, মকর দ্বারের সামনে চা খাচ্ছেন বিক্ষোভে বসে থাকা রাহুল ও অন্য সাংসদেরা। এতে সংসদের গরিমা নষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে শাসক শিবির। তাই আগামী দিনে মকর দ্বারের সিঁড়িতে বসে বা দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছে শাসক শিবির।
আজ বেলা বারোটায় অধিবেশন বসলে ফের ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিরোধীরা। বিরোধীদের থালা-গ্লাস বাজানোর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর সমালোচনা করে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘‘এ ধরনের প্রতিবাদে আপনাদের জনসমর্থন আরও নিম্নমুখী হচ্ছে। সংসদ চত্বরে খাবার খাচ্ছেন! এ ধরনের ঘটনা অনুশাসনহীনতার নামান্তর। নেতা গ্লাস-থালা নিয়ে নাটক করে যাচ্ছেন!...এরা ভাবছেন, এ ধরনের কাজ করলে জনতার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন! জনতা এ ধরনের কাজকর্ম দেখে উল্টে আরও রেগে যাচ্ছেন। এ ধরনের কাজের জন্যই বিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে পারছে না। ...আপনাদের এ ধরনের কাজকর্ম জনতা কোনও দিন ক্ষমা করবে না।’’ রাহুলের রাজনৈতিক পরিপক্বতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজিজু বলেন, কংগ্রেসে রাহুলকে বোঝানোর মতো কোনও নেতা নেই। উল্টে নেতার দেখাদেখি দলের বাকি নেতাদের আচরণও পাল্টে গিয়েছে। কংগ্রেসের উদ্দেশে বার্তায় রিজিজু বলেন, ‘‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এখনও সময় আছে, নিজেদের পাল্টান। তা না হলে ভারতের জনতা আরও কঠিন শাস্তি দেবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)