প্রায় দু’হাজার বছর আগের কথা। শোনা যায়, জিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার পরে তাঁর দেহ লিনেন কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। এত বছর পরে খ্রিস্টধর্মের সেই পবিত্র গাথা ফের খবরের শিরোনামে। কারণ প্রাচীন সেই কাপড় ‘শ্রাউড অব তুরিন’-এর ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে তাতে ভারতের যোগসূত্র রয়েছে। তবে কি জিশু ভারতে এসেছিলেন! চমক, প্রশ্ন, রহস্য জমাট বেঁধেছে সুতোর বুনোটে। নতুন গবেষণাপত্রটি ‘ডিএনএ ট্রেসেস অন দ্য শ্রাউড অব তুরিন: মেটাজিনোমিক্স অব দ্য ১৯৭৮ অফিসিয়াল স্যাম্পল কালেকশন’ প্রকাশিত হয়েছে ‘বায়োআর্কাইভ’-এ।
ইটালির তুরিন শহরে ‘ক্যাথিড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এ রাখা আছে ৪.৩৬ মিটার দীর্ঘ সেই লিনেন কাপড়। তাতে ফিকে হয়ে আসা দেহ-মুখের অবয়ব আজও দেখতে পাওয়া যায়। কালের নিয়মে পুরনো হতে থাকা সিপিয়া রঙ ধরা কাপড়ে রক্তের ছাপও ধূসর হয়েছে। বহু বার বহু পরীক্ষা করা হয়েছে কাপড়টি নিয়ে। ধর্মবিশ্বাসীদের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র। সমালোচকদের দাবি, মধ্যযুগীয় মিথ্যা প্রচার।
বাইবেল সূত্রে জানা যায়, এক সময়ে রোমান ম্যাজিস্ট্রেট পিলেট জিশুকে ক্রুশ থেকে নামিয়ে আনার অনুমতি দেন জোসেফ অব অ্যারিমাথিয়াকে। জিশুর ভক্তেরা তখন তাঁকে পরিষ্কার, নরম লিনেন কাপড়ে মুড়ে দেন। মধ্যযুগে ফ্রান্সে ফের সেই কাপড়টি মেলে। তখন সেটিকে তুরিনে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ পর্যন্ত ভারতের উল্লেখ মেলেনি। যদিও পরবর্তী কালে বেশ জনপ্রিয় হয় হলগার কার্স্টেনের বিতর্কিত, কিন্তু জনপ্রিয় বই ‘জিসাস লিভড ইন ইন্ডিয়া’। বহু পরীক্ষায় কাপড়টিতে দু’ধরনের বিষয় চোখে পড়ে। এক, সুতোর বুনন বেশ ভিন্ন। তা থেকে অনুমান করা যায় সেটি বেশ দামি। দুই, লিনেন কাপড় হলেও ওতে কটন বা সুতির কাপড়ের চিহ্ন রয়েছে। অতএব তা অবশ্যই দূর দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছিল। কার্স্টেন সেই দু’টি বিষয়কে জুড়ে দুয়ে দুয়ে চার ‘ভারত’ করেছিলেন।
নতুন গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, ওই কাপড়ে পাওয়া ৩৮.৭ শতাংশ মানব ডিএনএ-রও ভারতীয় যোগ রয়েছে। তবে এ-ও লেখা হয়েছে, ‘‘এর কারণ হতে পারে মানুষে মানুষে যোগাযোগ। সিন্ধু উপত্যকা থেকে লিনেন আমদানি করত রোমানরা, সেটাও কারণ হতে পারে।’’ নতুন গবেষণায় আরও নজর কেড়েছে, হাজার বছর ধরে প্রকৃতির সঙ্গে যুঝে, এত হাত ঘুরে এক টুকরো কাপড়ের বিপুল জৈবিক পরিবর্তন। তবে এই গবেষণা থেকেও কাপড়টি জিশুর কি না, বয়স কত জানা যায়নি। শুধু এটা স্পষ্ট, বহু সভ্যতা, সংস্কৃতি ও অঞ্চল পার করেছে কাপড়টি। আর সন্দেহ জোরদার হয়েছে, ওই কাপড় এসেছিল সিন্ধু উপত্যকা থেকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)