উত্তরপ্রদেশের বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল শেষ। ওই পর্ব মিটতেই দলে চর্চা শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় স্তরে সাংগঠনিক পরিবর্তন ও মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলকে কেন্দ্র করে।
গত জানুয়ারিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেও নিজস্ব ‘টিম’ ঘোষণা করেননি নিতিন নবীন। তাঁর ওই ঘোষণার মাধ্যমেই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় স্তরে সাংগঠনিক রদবদল সেরে ফেলবে বিজেপি। আগামিকাল থেকে দু’দিনের সেশেল্স সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি সূত্রের মতে, আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা সেরেছেন নিতিন। কয়েক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্তরে সাংগঠনিক রদবদল সেরে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
আটকে রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণও। আগামী ২৯ জুন প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন। তার পরে ৬ জুলাই ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জ়িল্যান্ড সফরে যাবেন। ১১ জুলাই ফেরার কথা। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘ওই দুই বিদেশ সফরের মাঝে এক সপ্তাহ দেশে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে। তবে ১-৩ জুলাই জাপানের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। তাই ওই সময়ে না হলে বাদল অধিবেশনের পরে সম্ভবত রদবদল হবে।’’
এপস্টিন ফাইল কেলেঙ্কারিতে নাম এসেছিল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরীর। সূত্রের মতে, তাঁর পরিবর্তে রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টিকে ভাঙার ‘মূল অস্ত্র’ রাঘব চড্ডাকে আনা হতে পারে। উত্তরপ্রদেশের ভোটের কথা মাথায় রেখে ‘রামায়ণ’ ধারাবাহিকে রামের চরিত্রাভিনেতা তথা লোকসভার সাংসদ অরুণ গোভিলকে মন্ত্রী করা হতে পারে। তৃণমূলের লোকসভা দলকে ভাঙায় বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়। ওই দু’জন ছাড়াও মন্ত্রিত্বের দৌড়ে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির এক বা একাধিক নেতাকে মন্ত্রী করার কথা ভাবা হয়েছে। তাতে নাম রয়েছে শমীক ভট্টাচার্য ও সদ্য দলে যোগ দেওয়া লিয়েন্ডার পেজেরও। পেজকে রাজ্যসভার একটি আসন থেকে জিতিয়ে আনার কথা ভাবছে দল। পেজ মন্ত্রী হলেখ্রিস্টান সমাজকে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারবে বিজেপি।
মন্ত্রিসভার রদবদলে শিবসেনা (শিন্দে) সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্দের ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়া প্রায় নিশ্চিত। চর্চা রয়েছে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে নিয়ে। সূত্রের মতে, নীতীশের দল জেডিইউয়ের নজর রয়েছে রেল মন্ত্রকে। রেল প্রতিমন্ত্রী রবণীত বিট্টুর রাজ্যসভার মেয়াদ চলতি মাসে শেষ হয়েছে। মন্ত্রিসভায় পঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখতে রাজ্যসভার সাংসদ তরুণ চুঘকে মন্ত্রী করার কথা ভাবা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বিট্টুকে পঞ্জাবে সংগঠনের পদ দেওয়া হতে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)