চুনোপুঁটিদের ফাঁসিয়ে দিয়ে রাঘব বোয়ালদের বাঁচানোর চেষ্টা! অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের প্রণামী চুরি কেলেঙ্কারিতে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ আট জনকে গ্রেফতার করার পরে বিরোধী শিবির এই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলল। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত চেয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, চুরির অভিযোগ রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের বিরুদ্ধে। সেই ট্রাস্টের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত হচ্ছে। তা হলে আসল অপরাধীরা কী ভাবে ধরা পড়বে?
কংগ্রেসের অভিযোগ, যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা সকলেই প্রণামীর টাকা গোনার দায়িত্বে ছিলেন অথবা গাড়ি চালাতেন। তাঁদের ফাঁসিয়ে দিয়ে আসল অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে। কারণ, রাঘব বোয়ালদের যোগ না থাকলে যাঁরা প্রণামী গোনেন, তাঁদের পক্ষে কোটি কোটি টাকা সরানো কি সম্ভব? বিজেপি-আরএসএসের দিকে আঙুল তুলে কংগ্রেসের প্রশ্ন, রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টে বিজেপি, সঙ্ঘ পরিবারের লোকজন কী করছিলেন?
কংগ্রেস সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজীব শুক্ল বলেন, “ধর্মীয় বিষয় নিয়ে রাজনীতি করতে চাইনি। কিন্তু এখন এফআইআর হয়েছে। গ্রেফতারি হয়েছে। সরকার নিজেই প্রণামীর টাকা চুরির কথা মেনে নিচ্ছে। কিন্তু আসল অপরাধী কারা?” বিরোধী শিবির মনে করছে, রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা চম্পত রাই ইস্তফা দিলেও তাঁর কিছু হবে না। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রাক্তন কর্তা, মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র তাঁকে ছাড়পত্র দিয়ে রেখেছেন। কেন রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের মাথায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, সঙ্ঘ পরিবারের নেতারা বসেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুক্ল বলেন, “বিজেপি দলের মধ্যে মন্দির শাখা খুলেছে। রাজনৈতিক দলে দলিত, ছাত্র, মহিলা শাখা হয়, মন্দির শাখা কেন হবে? এটা কি মন্দিরের ট্রাস্ট দখলের খেলা?” কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, “হিন্দুত্বের স্বঘোষিত রক্ষকদের মুখোশ খুলে গিয়েছে অযোধ্যায় রামমন্দিরের চুরির ঘটনায়।”
শিবসেনা (উদ্ধব)-এর নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, আসল অপরাধীরা এখনও রামমন্দির ট্রাস্টে বসে রয়েছেন। শিবসেনা ৪ কেজি রুপোর ইট মন্দিরে দান করেছিল। উদ্ধব ঠাকরে এক কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। এখনও তার রসিদ মেলেনি। তাঁর অভিযোগ, রামমন্দির থেকে চুরি করা ২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তৃণমূল ও উদ্ধবের শিবসেনার সাংসদদের ভাঙানো হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)