Advertisement
E-Paper

তিরুপতি লাড্ডু-বিতর্ক: ২৫০ কোটি টাকায় ৬৮ লক্ষ কেজি ভেজাল ঘি! চূড়ান্ত চার্জশিটে আর কী দাবি করল সিবিআই

তিরুপতির ভেজাল ঘি মামলার তদন্তে গত শুক্রবার নেলোরের দুর্নীতিদমন আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। ৩৬ জনের নাম রাখা হয়েছে অভিযুক্তের তালিকায়। তাতে রয়েছেন মন্দির পরিচালন কমিটির ন’জন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৮
তিরুপতির মন্দিরে লাড্ডু-বিতর্কে চূড়ান্ত চার্জশিট দিল সিবিআই।

তিরুপতির মন্দিরে লাড্ডু-বিতর্কে চূড়ান্ত চার্জশিট দিল সিবিআই। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তিন বছরে ২৫০ কোটি টাকা দিয়ে মোট ৬৮ লক্ষ কেজি ভেজাল ঘি কেনা হয়েছিল তিরুপতি মন্দিরে! প্রসাদী লাড্ডু বানাতে ব্যবহার করা হয়েছিল সেই ভেজাল ঘি-ই। চূড়ান্ত চার্জশিটে এমনটাই দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।

তিরুপতির ভেজাল ঘি মামলার তদন্তে গত শুক্রবার নেলোরের দুর্নীতিদমন আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। ৩৬ জনের নাম রাখা হয়েছে অভিযুক্তের তালিকায়। তাতে রয়েছেন মন্দির পরিচালন কমিটির ন’জন। এ ছাড়াও, পাঁচ জন দুগ্ধ বিশেষজ্ঞেরও নাম রয়েছে চার্জশিটে। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মন্দিরে প্রায় ৬৮ লক্ষ কেজি ভেজাল ঘি সরবরাহ করা হয়েছিল, যার বাজারদর প্রায় ২৫০ কোটি টাকা! দুধ কিংবা মাখন থেকে নয়, বরং রাসায়নিক মিশিয়ে একটি ঘি-সদৃশ পদার্থ তৈরি করা হয়েছিল। স্বাদে কিংবা গন্ধে খাঁটি গরুর ঘিয়ের মতো হলেও এতে ছিল প্রচুর পরিমাণে পাম তেল এবং অ্যাসিটিক অ্যাসিড এস্টার। চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, উত্তরাখণ্ডের যে ডেয়ারি থেকে তিরুপতির মন্দিরে ঘি আসত, সেখানকার পরিত্যক্ত ট্যাঙ্কারগুলিতে পশুচর্বি পাওয়া গিয়েছে। সেই ট্যাঙ্কারই ফের পুনর্ব্যবহারের যোগ্য করে তাতে ভেজাল ঘি ভরে মন্দিরে ফেরত পাঠানো হত বলে অভিযোগ।

উত্তরাখণ্ডের ওই ডেয়ারির কেনাবেচার নথি খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, ঘি বানানোর জন্য ওই তিন বছরে এক ফোঁটাও দুধ কিংবা মাখন কেনেনি তারা! বরং প্রচুর পরিমাণে কেনা হয়েছিল পাম তেল, পাম কার্নেল এবং নানাবিধ রাসায়নিক। সেগুলি মিশিয়ে ঘিয়ের মতো দেখতে ওই মিশ্রণ তৈরি করা হয়েছিল। একে ঘিয়ের মতো গন্ধ এবং স্বাদ দিতে মনোডাইগ্লিসারাইড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড এস্টার এবং ভোজ্য সুগন্ধি সরবরাহ করেছিলেন দিল্লির এক ব্যবসায়ী। ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (এনডিডিবি)-এর তথ্য বলছে, ওই ভেজাল ঘি পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, এর গুণমান সূচক বা এস-ভ্যালু ১৯.৭২, যেখানে এর ন্যূনতম মান হওয়া উচিত ৯৮! অথচ সব জেনেও এই দুর্নীতিতে মদত দিয়েছিলেন মন্দির পরিচালন কমিটি (টিটিডি)-র ঊর্ধ্বতন কর্তা এবং দুগ্ধ বিশেষজ্ঞেরা। ঘিয়ে উদ্ভিজ্জ চর্বির উপস্থিতির প্রমাণ লোপাট করতে তাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষও নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

তিরুপতিতে লাড্ডু-বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৪ সালে। সে বছর অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি)-র প্রধান চন্দ্রবাবু নায়ডু অভিযোগ করেন, জগন্মোহন রেড্ডির সরকারের আমলে তিরুমালার প্রসাদী লাড্ডু বানানোর সময় ব্যবহৃত ঘি-র সঙ্গে পশুর চর্বি মেশানো হত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠে নামে সিবিআই। এ বার চার্জশিটে এমনটাই দাবি করল কেন্দ্রীয় সংস্থা।

Tirupati Tirupati Temple Laddu CBI
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy